তৃণমূল সরকারের ‘রাজনৈতিক বঞ্চনার’ অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’য় আনুষ্ঠানিকভাবে সামিল হল পশ্চিমবঙ্গ। বৃহস্পতিবার আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এই প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের জমানায় আয়ুষ্মান, আবাসের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির মতো পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা থেকেও বঞ্চিত ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকারের জমানায় সেসব পেরিয়ে এবার বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবে এই রাজ্যের বিশ্বকর্মারা। লোহা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক থেকে শুরু করে কাঠের মিস্ত্রি, মূর্তিকার, মালাকার, ক্ষৌরকাররাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের সন্ধ্যায় ধনধান্য অডিটোরিয়াম থেকে রাজ্যের বিশ্বকর্মাদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন ছত্রে ছত্রে আগের তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় এমএসএমই মন্ত্রী জিতেন রাম মাঝি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত শাসকদলের অলিখিত নির্দেশে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ হস্তশিল্পী এবং কারিগর এতদিন কেন্দ্রীয় সাহায্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার মাত্র চার মাসের মধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক বাধা দূর করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলের বদলে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে খোলা মাঠে অন্তত পাঁচ লক্ষ সুবিধাভোগীকে নিয়ে উদ্যাপিত হবে বিশ্বকর্মা দিবস।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতন রাম মাঝির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বকর্মা পোর্টালে নিবন্ধিত ৭ লক্ষ ৭০ হাজার কারিগর থাকা সত্ত্বেও আগের সরকার জেলাশাসকদের অলিখিত নির্দেশ দিয়ে এই কাজ বন্ধ রেখেছিল। আয়ুষ্মান ভারত অথবা বিশ্বকর্মা যোজনার মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্প আটকে রাখার জেরেই রাজ্যের স্বর্ণশিল্পী, চামড়াশিল্পী বা হস্তশিল্পীদের সুরাট, দিল্লি, জয়পুর বা পুনের মতো ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল। যে তিন রাজ্য আয়ুষ্মান ভারত আটকেছিল, জনগণ ভোটের বাক্সে তাদেরই পরিবর্তন করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত বিশ্বকর্মারাই আগের সরকারকে উৎখাত করেছেন।’
গত ১৪ মে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর প্রকল্প পরিচালনার জন্য রাজ্য পর্যায়ে নজরদারি কমিটি এবং জেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপযুক্ত উপভোক্তা বাছাই, যাচাই এবং নথিভুক্তির কাজ নানা ধাপে এগিয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে রাজ্যে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘স্বর্ণশিল্পী, চর্মশিল্পী, নির্মাণশিল্পী, কামার, কুমোর, কাঠমিস্ত্রি, দর্জি, মূর্তিকার, মাছ ধরার বোট, জাল তৈরির কারিগররাও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন। নরসুন্দর, মালাকার, ঝিনুক শিল্পী, মাটির কাজ, কাঠ-জুটের পুতুল যাঁরা তৈরি করেন, তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। হাতের কাজ করার স্কিল থাকতে হয়, তার জন্য অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট লাগে না। বংশপরম্পরাকে রক্ষা করার জন্য গোটা ভারত সুবিধা নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো তামিলনাড়ুও পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার সুবিধা নেয়নি। পাবলিক ওদের চিহ্নিত করেছে। প্রকৃত বিশ্বকর্মারাই তাদের বদলে দিয়েছে।’




