কলকাতা বিমানবন্দরে আবার সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাঙ্কক থেকে কলকাতায় আসা উড়ানের এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে ওঠে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের। কারণ ওই যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই যাত্রীর নাম রবিভূষণ তিওয়ারি বলে জানা গিয়েছে। ওই যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৭০ গ্রামেরও বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছে। এই সোনা পাচারের জন্যই আনা হয়েছিল। তবে পাচারচক্রের জালে শুল্ক দপ্তরের কয়েকজন অফিসারও জড়িয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিভূষণ ব্যাঙ্কক থেকে সোনা নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোজা বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। সেখান থেকে বেরনোর সময়েই ধরা হয় তাকে। আটক করে বিমানবন্দর থানার পুলিশ। ব্যাঙ্কক থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা পাচার হতে পারে বলে গোপন সূত্রে খবর আগেই এসেছিল। তাই সকাল থেকে বিমানবন্দরের বাইরে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। রবিভূষণ তিওয়ারিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তল্লাশি চালিয়ে ৭০ গ্রামের বেশি ওজনের সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। যা স্বাভাবিকভাবে একজন যাত্রীর কাছে থাকার কথা নয়।
গত সপ্তাহের একটি ঘটনার তদন্তে নেমে সূত্রটি মেলে। গত সোমবারও ব্যাঙ্কক থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই যাত্রীকে গ্রেপ্তার করে জেরা করতেই উঠে আসে রবিভূষণের নাম। তখনই পুলিশ জানতে পারে ওই একই বিমান ব্যবহার করে রবিভূষণও সোনা নিয়ে কলকাতায় আসছে। তখন থেকেই ফাঁদ পেতে বিমানবন্দরে প্রস্তুত থাকে পুলিশ। গত আগস্ট মাসেও এই ধরনের সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। বিমানবন্দর থানা সূত্রে খবর, তখন দুজন যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৯০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁরাও ব্যাঙ্কক থেকে এই বিপুল পরিমাণ সোনা শহরে নিয়ে এসেছিল।
তাছাড়া ধৃতদের প্রত্যেককে জেরা করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, এই পাচারের নেপথ্যে কাজ করছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক পাচার চক্র। ব্যাঙ্কক থেকে নিয়মিত এই পথেই কলকাতায় সোনা পাচার করা হচ্ছিল। আর শুল্ক দপ্তরের কিছু অফিসারের সঙ্গে এই চক্রের প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ। গোটা চক্রটির মূল পাণ্ডাদের ধরতে তল্লাশি এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে। ব্যাঙ্কক থেকে কলকাতায় বিপুল পরিমাণ সোনা পাচারের একটি চক্রের তথ্যপ্রমাণ পুলিশের কাছে এসেছে।




