ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মোবাইল পাচার চক্রের কিনারা করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পাঁচ বছরের মোবাইল চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে লালবাজারের।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে ১০টি মামলা। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২০০টিরও বেশি চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ৯ জনের বাড়ি বাংলাদেশের বাঁকুলিয়া, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটে। অভিযোগ, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে চুরি যাওয়া মোবাইলের একটা বড় অংশই এই চক্রের হাত ধরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার হয়ে যেত। দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত সংগঠিতভাবে চলছিল এই কারবার।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ধৃতরা মূলত পর্যটন ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসায় ভারতে এসেছিল। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তারা আর দেশে ফেরেনি। বরং কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় পাকাপাকি ভাবে থেকে গিয়েই শুরু করে মোবাইল পাচারের কারবার। ধীরে ধীরে তৈরি করেছিল নিজেদের নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে চুরি যাওয়া মোবাইল পৌঁছে যেত বাংলাদেশে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু কলকাতা নয়, পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং রাজ্যের একাধিক জেলা থেকেও মোবাইল সংগ্রহ করত এই চক্র। এরপর নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সেগুলি সীমান্তের ওপারে পাচার করা হত। ফলে চুরি যাওয়া মোবাইলের হদিস পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।
এখনও পর্যন্ত ২০০টির বেশি মোবাইল ফোন উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র এসেছে। পাঁচ বছর ধরে চলা মোবাইল চুরির ঘটনাগুলির সঙ্গে ধৃতদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। সীমান্ত পেরিয়ে চলা এই আন্তর্জাতিক মোবাইল পাচার চক্রের জাল কতটা গভীর, ধৃতদের জেরা করেই এখন সেই রহস্যের পর্দা তুলতে চাইছে লালবাজার।




