• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 4 November, 2026

বিহারে ‘অপরাধ’ নেই, আছে শুধু ‘ক্রাইম’! সম্রাটের আজব যুক্তিতে হাসির রোল, তোপ বিরোধীদের

শব্দের মারপ্যাঁচে বেজায় অস্বস্তিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। দিল্লির এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে

বিহারে ‘অপরাধ’ নেই, আছে শুধু ‘ক্রাইম’! সম্রাটের আজব যুক্তিতে হাসির রোল, তোপ বিরোধীদের

শব্দের মারপ্যাঁচে বেজায় অস্বস্তিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। দিল্লির এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এমন এক যুক্তি খাড়া করেছেন তিনি, যা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তাঁর দাবি, বিহারে কোনও ‘অপরাধ’ নেই, তবে ‘ক্রাইম’ থাকতে পারে! মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির। আরজেডি থেকে কংগ্রেস, একের পর এক নেতা নিশানা করেছেন বিহারের বিজেপি সরকারকে।

সম্প্রতি দিল্লিতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সম্রাট। সেখানেই বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে কোনও অপরাধ নেই। অপরাধের ধারণাই পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছে। ক্রাইম হতে পারে, কিন্তু অপরাধ নেই। এখানে কোনও অপরাধীও নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, ‘অপরাধ’ ও ‘ক্রাইম’-এর মধ্যে এমন কী পার্থক্য রয়েছে, যা দিয়ে বিহারকে অপরাধমুক্ত বলে দাবি করছেন তিনি?

সম্রাটের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে প্রথমেই আক্রমণ শানিয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল। দলের নেতা তথা বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি সত্যিই সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে বিহারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চান?

সম্রাটের বক্তব্যের একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তেজস্বী। তাঁর আরও কটাক্ষ, মঞ্চে উপস্থিত আমলারা এমন একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করে নিজেদের সম্মানিত মনে করছেন, নাকি অপমানিত? অতীতে সাত জনের খুনের মামলায় সম্রাটের নাম জড়ানোর প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। সম্রাটের যুক্তির অনুকরণে সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “দারিদ্র থাকতে পারে, কিন্তু গরিব বলে কেউ নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে এভাবেই ব্যঙ্গ করেছেন তিনি।

আরজেডির মুখপাত্র এজাজ আহমেদের বক্তব্য, হিন্দিতে ‘অপরাধ’ এবং ইংরেজিতে ‘ক্রাইম’ একই অর্থ বহন করে। দুটি শব্দের মধ্যে কোনও মৌলিক পার্থক্য নেই। তাঁর মতে, সরকারের শীর্ষ পদে থেকে এমন মন্তব্য করার আগে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর।

উল্লেখ্য, সম্রাট চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল আরজেডির হাত ধরেই। নব্বইয়ের দশকে তাঁর নিজের জেলা মুঙ্গেরে সাত জনের খুনের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। যদিও সম্রাট বরাবরই দাবি করে এসেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছিল এবং অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন।

 

 

 

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার পদত্যাগ করার পর বিহারের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সম্রাট চৌধুরী। বর্তমানে নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁর ছেলে নিশাদ কুমার বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

তবে এই বিতর্কে সরাসরি সম্রাটের সমালোচনা করতে চাননি এনডিএ-র শরিক লোক জনশক্তি পার্টির প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান। বরং অপরাধ দমনে মুখ্যমন্ত্রীর ‘স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি’র প্রশংসা করেছেন তিনি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিরাগের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—দুই দায়িত্বেই রয়েছেন সম্রাট। ফলে নিজের দাবির পক্ষে তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই তিনি মন্তব্য করেছেন বলে বিশ্বাস করেন চিরাগ। বিহারকে অপরাধমুক্ত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।