• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 4 November, 2026

কালীপুজোয় তারাপীঠ-সহ পাঁচ সতীপীঠে কড়া নিরাপত্তা, চোরবাগান-কাণ্ডের শিক্ষা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা বীরভূমের পুলিশের

বাজি পোড়ানো এবং আকাশপ্রদীপ ওড়ানোর ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ফানুস ওড়ানোর অনুমতি চেয়ে কোনও আবেদন জমা পড়েনি

কালীপুজোয় তারাপীঠ-সহ পাঁচ সতীপীঠে কড়া নিরাপত্তা, চোরবাগান-কাণ্ডের শিক্ষা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা বীরভূমের পুলিশের

Image: SNS

চোরবাগানের দুর্গাপুোজর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর কালীপুজোয় (Kalipuja) বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বীরভূম জেলা পুলিশ। কালীপুজোয় (Kalipuja) নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা পুলিশ। তারাপীঠ মন্দিরের পাশাপাশি জেলার পাঁচটি সতীপীঠেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কালীপুজোর (Kalipuja) সময় দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি চালানো হবে। লোবা, সাঁইথিয়া এবং সিউড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমের জায়গাগুলিতে বিশে, নিরাপত্তা প্রোটোকল চালু করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি তৈরি করা হবে বিশেষ পুলিশ ক্যাম্প এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা। নজরদারির জন্য ড্রোনও ব্যবহার করা হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে থাকবে সহায়তা কেন্দ্র এবং বায়ো-টয়লেটের ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: কালীপুজোয় নিরাপত্তা-আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ, ২৫০০ পুলিশ মোতায়েন বারাসতে

পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ ‘দ্য স্টেটসম্যান’-কে জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর সময় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ মোতায়েনের ফলে পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হয়েছিল। কালীপুজোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

কালীপুজোর (Kalipuja) রাতে বীরভূমে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। দেশের ৫১টি সতীপীঠের মধ্যে পাঁচটি রয়েছে এই জেলাতেই। সেগুলি হল—কঙ্কালীতলা, নলাটেশ্বরী, নন্দিকেশ্বরী, বক্রেশ্বর এবং ফুল্লরা। এ ছাড়াও রামপুরহাটের বিখ্যাত তারাপীঠ মন্দিরে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের ভিড় হয়। কালীপুজোর সময় সেই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। তাই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

বাজি পোড়ানো এবং আকাশপ্রদীপ ওড়ানোর ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ফানুস ওড়ানোর অনুমতি চেয়ে কোনও আবেদন জমা পড়েনি। তবে এ বিষয়ে দমকল বিভাগের লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বেআইনি বাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী, কৃষ্ণনগরে প্রস্তুতি পর্ব চরমে

ইতিমধ্যেই বেআইনি বাজির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। মল্লারপুরে অভিযান চালিয়ে এক জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি বেআইনি বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর আগে দুবরাজপুরে অভিযান চালিয়ে ২,০৫০টি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, জেলায় শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি বিক্রির অনুমতি থাকবে। দমকল বিভাগের অস্থায়ী লাইসেন্স ছাড়া কোনও রাস্তার বিক্রেতা বাজি বিক্রি করতে পারবেন না। হাসপাতাল, স্কুল, আদালত এবং কলেজের মতো নীরব এলাকায় বাজি বিক্রি ও পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বোলপুর রেলস্টেশন থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কঙ্কালীতলা দেশের ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম এবং প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী শেষ সতীপীঠ। কালীপুজোর (Kalipuja) পুণ্যরাতে এই এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী তারাপীঠ মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। স্থানীয় হোটেল, রিসর্ট এবং হোমস্টেগুলি কার্যত পূর্ণ হয়ে যায়। এই বিপুল জনসামগম সামাল দিতে তাই আগেভাগেই নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বীরভূম জেলা পুলিশ।

দেখুন: