• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 24 August, 2026

বাংলার অর্থনৈতিক অবক্ষয় কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ কঠিন, কিন্তু একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক: স্বপন দাশগুপ্ত

তিনি রবিবার দিল্লির চিত্তরঞ্জন ভবনে এক আলোচনাসভায় বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাংলাকে কয়েক দশকের হতাশার মানসিকতা কাটিয়ে উঠতে হবে, বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ আনতে হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে

বাংলার অর্থনৈতিক অবক্ষয় কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ কঠিন, কিন্তু একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক: স্বপন দাশগুপ্ত

Image: IANS

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ( Swapan Dasgupta) স্বীকার করেছেন যে রাজ্যের সামনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। তিনি রবিবার দিল্লির চিত্তরঞ্জন ভবনে এক আলোচনাসভায় বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাংলাকে কয়েক দশকের হতাশার মানসিকতা কাটিয়ে উঠতে হবে, বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ আনতে হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে আরও একটি প্রজন্মের তরুণ-তরুণী কাজ ও সুযোগের সন্ধানে বাংলা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবে।

স্বপন দাশগুপ্ত ( Swapan Dasgupta)বলেন, গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ যেন এক ধরনের ‘স্থায়ী হতাশার মধ্যে’ ছিল। ধীরে ধীরে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির যাত্রায় পশ্চিমবঙ্গের আর কোনও গুরুত্ব নেই।তিনি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে আমরা এক ধরনের স্থায়ী হতাশার মধ্যে ছিলাম। প্রশ্ন উঠেছিল—পশ্চিমবঙ্গ কি আর প্রাসঙ্গিক? ভারতের অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম।’

এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশেষ করে কলকাতায় স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি  ( Swapan Dasgupta)মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, কলকাতার কিছু এলাকা ধীরে ধীরে এমন একটি শহরের চেহারা নিয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত মানুষ বসবাস করেন; অথচ শিল্প, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, তরুণ পেশাজীবী এবং নতুন উদ্যোগ আকর্ষণ করার কেন্দ্র হিসেবে শহরটির ভূমিকা কমে গেছে।দাশগুপ্ত বলেন, ‘দক্ষিণ কলকাতা অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের বসবাসের জায়গায় পরিণত হয়েছিল। তরুণরা কাজের সন্ধানে রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছিল।’

তাঁর( Swapan Dasgupta) মতে, ‘একটি গোটা প্রজন্ম বাংলা ছেড়ে চলে গেছে।’এই প্রবণতা বদলাতে হলে কলকাতা যে কার্যত একটি “অবসরপ্রাপ্তদের আবাসস্থল” হয়ে উঠেছে—এই ধারণাটিও বদলাতে হবে বলে তিনি জানান।দাশগুপ্ত ( Swapan Dasgupta)বলেন, সাদা-কলার কর্মী এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের দক্ষ কর্মীদের রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তাঁর( Swapan Dasgupta) মতে, আক্রমণাত্মক ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠনের রাজনীতি বিনিয়োগকারীদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বা হতাশাজনক ছবি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।তিনি একই সঙ্গে ‘তোলাবাজি’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, তোলাবাজিকে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠতে দেওয়া যায় না।

তিনি( Swapan Dasgupta) বলেন, ‘তোলাবাজি এখনও চলছে এবং এতে আমি অসন্তুষ্ট। এটা রাজ্যের ডিএনএ বা স্বভাবের অংশ হয়ে যাওয়া উচিত নয়।’বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমিও একটি বড় কাঠামোগত সমস্যা বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় কৃষিজমি অত্যন্ত ছোট ছোট খণ্ডে ভাগ হয়ে গেছে এবং জমি হস্তান্তর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দাশগুপ্ত বলেন, ‘কৃষিজমির খণ্ডগুলো রুমালের মতো ছোট। জমি প্রায় হস্তান্তর-অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’

তাঁর ( Swapan Dasgupta)মতে, জমিকে আরও সহজে হস্তান্তরযোগ্য এবং বাজারে কেনাবেচার উপযোগী করতে আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। তবে এই ধরনের সংস্কার বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেন।মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলার বাঙালি উদ্যোক্তাদের মধ্যে মূলধনের ঘাটতি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলায় বসবাসকারী অন্যান্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের হাতে যথেষ্ট বিনিয়োগযোগ্য অর্থ রয়েছে।

তিনি ( Swapan Dasgupta)বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাঙালিদের হাতে মূলধনের ঘাটতি রয়েছে। তবে বাংলায় বসবাসকারী অন্যান্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে বিনিয়োগ করার মতো অর্থ রয়েছে।’তাঁর মতে, শুধু বাইরে থেকে মূলধন নিয়ে আসাই যথেষ্ট নয়। বাঙালি উদ্যোক্তাদের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে স্থানীয় ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলি বড় ব্যবসায় পরিণত হয়ে ‘বড় লিগে’ প্রবেশ করতে পারে।

দাশগুপ্ত ( Swapan Dasgupta)বলেন, ‘শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্রে বাঙালি সমাজের মানসিকতায় কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়? এটাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’তিনি বলেন, বাংলাকে নিয়ে হতাশার মানসিকতা শুধু শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে। এমনকি সাধারণ নাগরিক পরিষেবার উন্নতিও অনেক সময় অসম্ভব বলে মনে হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কলকাতার ফুটপাথের অবনতিশীল অবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

তাঁর ( Swapan Dasgupta)বক্তব্য, ‘যে কোনও পরিবর্তনের বিরুদ্ধেই একটা প্রতিরোধ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলার বুদ্ধিজীবী সমাজের একটি অংশ যেন “পিছিয়ে থাকার অবস্থার সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ জড়িয়ে ফেলেছে’।দাশগুপ্ত রাজ্যের কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের আয়ের একটি বড় উৎস এখনও মদ বা মদজাত পণ্যের উপর থেকে পাওয়া কর।

তিনি ( Swapan Dasgupta)বলেন, ‘রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতিকে শক্তিশালী করতে হলে করের অন্যান্য ক্ষেত্রেও করদাতাদের নিয়ম মেনে কর দেওয়ার প্রবণতা বা কমপ্লায়েন্স বাড়াতে হবে।’মন্ত্রী বলেন, বাংলার ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করার উপর, যেখানে নতুন ব্যবসা ও উদ্যোগ গড়ে উঠতে পারবে এবং বড় বিনিয়োগ আবার রাজ্যে ফিরে আসবে।

তিনি ( Swapan Dasgupta)সিঙ্গুর আন্দোলনকে, যার ফলে টাটা মোটরস বাংলার প্রকল্প থেকে সরে গিয়েছিল, রাজ্যের জন্য একটি ‘অভিশাপ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এখন বাংলাকে এমন কিছু বড় বিনিয়োগ আনতে হবে, যা গোটা ব্যবসায়ী মহলের কাছে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক বার্তা দেবে।

দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমাদের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ দরকার। কোনও বড় শিল্পগোষ্ঠী যদি আস্থার প্রকাশ হিসেবে এখানে বিনিয়োগ করে, তাহলে অন্যরাও অনুসরণ করবে।’

তিনি ( Swapan Dasgupta)বলেন, এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকতে হবে শিক্ষাব্যবস্থাকে। বাংলার শিক্ষার পরিকাঠামোকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে এবং এমন একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রাজ্যের মেধাবী ও দক্ষ তরুণ-তরুণীরা বাংলায় থেকে কাজ করার সুযোগ পায়। বর্তমানে যে প্রতিভা বা দক্ষ জনশক্তি দেশের অন্য রাজ্য কিংবা বিদেশে চলে যাচ্ছে, তাদের ধরে রাখাই হবে এই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার কাঠামো নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রতিভাবান মানুষদের বাংলায় ধরে রাখতে হলে একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

তবে এই পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।দাশগুপ্ত ( Swapan Dasgupta)বলেন, ‘এটা করতে আমাদের সময় লাগবে।’ একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলার মানুষের আত্মবিশ্বাস এবং নিজেদের রাজ্য সম্পর্কে গর্ব ও আস্থা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলার গর্বকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।’তবে সামনে যে কাজটি অত্যন্ত কঠিন, তা স্বীকার করেও দাশগুপ্ত আশাবাদী সুরে বলেন:’চ্যালেঞ্জটি অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু একই সঙ্গে এটি একটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক চ্যালেঞ্জ।’