• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 27 July, 2026

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অধরা, পুনর্বার নিট পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়ে মহারাষ্ট্রে আত্মঘাতী পরীক্ষার্থী

কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ১৬৬। প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পাওয়ার পর থেকেই তিনি হতাশায় ভুগছিলেন

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অধরা, পুনর্বার নিট পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়ে মহারাষ্ট্রে আত্মঘাতী পরীক্ষার্থী

NEET Student Suicide Photo-SNS

নিট-ইউজি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই ফের এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সামনে এল। মহারাষ্ট্রের ১৯ বছরের নিট পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালে নিটের পুনর্বার পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে না পারায় আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর পরিবারের দাবি, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অঙ্কিতা। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনও সন্দেহ বা অভিযোগ জানানো হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অঙ্কিতা মহারাষ্ট্রের কারজাত তালুকের জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত ৩ মে তিনি প্রথমবার নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন। পরিবারের দাবি, সেই পরীক্ষা তাঁর ভালো হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর সেই পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। এরপর ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, পুনর্বারের নিট পরীক্ষায় ৩০০-র বেশি নম্বর পাওয়ার আশা করেছিলেন অঙ্কিতা। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ১৬৬। প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পাওয়ার পর থেকেই তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। পরিবারের বক্তব্য, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় মানসিক চাপ সহ্য করতে পারেননি তিনি। গত ২৫ জুলাই, শনিবার বিকেলে নিজের বাড়িতেই চরম সিদ্ধান্ত নেন অঙ্কিতা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় তাঁর বাবা ও ভাই বাড়িতে ছিলেন না। তাঁরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পান্ধারপুর গিয়েছিলেন। তাঁর মা বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অঙ্কিতার কোনও সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা খুলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে অঙ্কিতা লিখেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য পরিবারের কেউ দায়ী নন। বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। চিরকুটে তিনি লিখেছেন, পরিবারের অনেক ভালোবাসা পেলেও তাঁদের আশা পূরণ করতে না পারার কষ্ট তাঁকে ভেঙে দিয়েছে।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ চলছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং পড়ুয়াদের উপর বাড়তে থাকা মানসিক চাপ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বারবার পরীক্ষা বাতিল, ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বহু পরীক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।