ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মহারাষ্ট্র। শনিবার সকালে মহারাষ্ট্রের নাসিক ও পালঘর জেলায় পরপর মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৬। ভূমিকম্পের পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে প্রশাসন সূত্রের খবর, এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
নাসিক জেলার সুরগানা তহসিলের বরগাঁও সংলগ্ন এলাকায় সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে পরপর চারবার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। একের পর এক কম্পন অনুভূত হওয়ায় বহু মানুষ আতঙ্কে বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা পরিস্থিতির উপরে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কোনও রকম গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সকাল প্রায় ১০টা ৫৭ মিনিটে পালঘর জেলার দাহানু তহসিলের ধুন্ডালওয়াড়ি-কাসা এলাকায় ৩.১ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে পালঘর জেলায় নিয়মিত ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সেখানে ২,৫০০-এর বেশি ছোট-বড় ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। লাগাতার ভূমিকম্পের জেরে বড় ধরনের প্রাণহানি না হলেও গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকায় কাঁচা বাড়িগুলিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দাহানু-তালাসারি অঞ্চলের বহু বাড়ি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
🚨 #NewsAlert | Maharashtra: An earthquake of magnitude 3.6 occurred in Nashik on 25 July 2026 at 09:55:26 IST. The earthquake was recorded at a depth of 5 km, with the epicentre located at Latitude: 20.360° N, Longitude: 73.607° E. @NCS_Earthquake | #Earthquake | #Nashik |… pic.twitter.com/tTtGRdF2fb
— United News of India (@uniindianews) July 25, 2026
এরই মধ্যে শনিবার নতুন করে ভূমিকম্পের জেরে বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, নাসিক জেলার পশ্চিমাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। চান্দোরি, সায়খেডা, কোথুরে, করঞ্জগাঁও ও চাপাডগাঁও-সহ একাধিক গ্রামের হাজার হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। আখ, সয়াবিনও ভুট্টার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জলমগ্ন এলাকায় কাউকে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে গঙ্গাপুর বাঁধ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ কিছুটা কমানো হয়েছে। এর ফলে নাসিক শহরের গোদাঘাট এলাকায় গোদাবরী নদীর জলস্তর কিছুটা নেমেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন।




