• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 25 July, 2026

নিট আন্দোলনের আবহে মোহন ভাগবতের বার্তা, ‘আদেশ নয়, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দরকার আলোচনা’ 

সংঘের কার্যনির্বাহী সদস্য ইন্দ্রেশ কুমার দাবি করেছেন, এই আন্দোলনের পিছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এমন কিছু শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যারা ভারতকে শক্তিশালী, উন্নত এবং শিক্ষিত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

নিট আন্দোলনের আবহে মোহন ভাগবতের বার্তা, ‘আদেশ নয়, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দরকার আলোচনা’ 

ছবি: এএনআই

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছেন। এবার সেই আবহে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তরুণ প্রজন্মকে ‘লক্ষ্যহীন’ বলে দাগিয়ে না দিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। ভাগবতের বক্তব্য, নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করে, তাই তাঁদের ওপর নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়ার বদলে যুক্তি দিয়ে বোঝানো উচিত। তাঁদের সময় দেওয়া এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি।

‘বিশ্ব মাঙ্গল্য সভা’-র এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, ‘ক্রমশ প্রজন্মের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। আজকের তরুণদের সঠিক দিশা দেখানো প্রয়োজন।’ তাঁর মতে, আগের প্রজন্মের মতো এখন আর অন্ধভাবে নির্দেশ মেনে চলার মতো পরিবেশ নেই। তাই অভিভাবক, শিক্ষক এবং বয়স্কদের দায়িত্ব, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, যুক্তি দিয়ে তাঁদের বিষয়টি বোঝানো এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।

সংঘ প্রধানের কথায়, ‘নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করে। আমাদের যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রচুর স্নেহ দিতে হবে। তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। যোগাযোগ রাখতে হবে। তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করতে হলে আদেশ নয়, আলোচনা করতে হবে। চাপিয়ে দেওয়া নয়, পারস্পরিক সমঝোতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।’ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্রমশ যোগাযোগ কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে একাত্মবোধ এবং আপন করে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে পরিবার ও সমাজ, উভয়েরই খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন।

যদিও তিনি সরাসরি দিল্লির যন্তর মন্তরের নিট আন্দোলনের প্রসঙ্গ কোথাও উল্লেখ করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ছাত্র আন্দোলনের আবহে তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্ন উঠেছে, এই বার্তা কি পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকেও উদ্দেশ করে দেওয়া? সম্প্রতি প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালও আরএসএস প্রধানের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘মোহন ভাগবতজি, যন্তর মন্তরের ঘটনা নিয়ে গত এক মাস ধরে আপনার নীরবতা, আপনার দেওয়া উপদেশের চেয়েও বেশি অর্থবহ।’

আরও পড়ুন: ধর্মেন্দ্রর ইস্তফায় কৃতিত্ব ছাত্র আন্দোলনের, মোদীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি খাড়্গের

অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আরএসএসের অন্দরে ভিন্ন সুরও শোনা গিয়েছে। সংঘের কার্যনির্বাহী সদস্য ইন্দ্রেশ কুমার দাবি করেছেন, এই আন্দোলনের পিছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এমন কিছু শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যারা ভারতকে শক্তিশালী, উন্নত এবং শিক্ষিত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।