• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 4 August, 2026

মুম্বাই পুলিশেই কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি, ‘ভূতুড়ে’ ১০ কর্মীর নামে গিয়েছে ৬.৪১ কোটি টাকার বেতন 

বিজয়া চাভান ও অমল মেশরামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে মুম্বাই পুলিশ। স্থগিতাদেশ চলাকালীন তাঁরা কোনও বেসরকারি চাকরি বা ব্যবসা করতে পারবেন না এবং বিভাগীয় অনুমতি ছাড়া বৃহন্মুম্বাইয়ের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মুম্বাই পুলিশেই কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি, ‘ভূতুড়ে’ ১০ কর্মীর নামে গিয়েছে ৬.৪১ কোটি টাকার বেতন 

মুম্বাই পুলিশে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি (AI নির্মিত ছবি)

অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাদের উপর বর্তায়, সেই পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধেই জালিয়াতির অভিযোগ উঠল। মুম্বাই পুলিশ বিভাগে প্রকাশ্যে এসেছে কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ। ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কাগজে-কলমে থাকা, কিন্তু বাস্তবে অস্তিত্বহীন ১০ জন ‘ভূতুড়ে’ কর্মীর নামে প্রায় ৬.৪১ কোটি টাকা বেতন তোলার অভিযোগ উঠেছে। এর জন্য ৫ জন প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক ও কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। পুরোনো ‘সেবার্থ’ পোর্টাল থেকে নতুন সফটওয়্যারে কর্মী ও বেতনের তথ্য স্থানান্তরের সময় এই কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস হয়।

উত্তর আঞ্চলিক বিভাগের এক পুলিশ আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০২০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই দুই সময়কালে ১০ জন ভুয়ো কর্মীর নামে নিয়মিত বেতন পাঠানো হয়েছে। অথচ তাঁদের সঙ্গে মুম্বাই পুলিশের কোনও সম্পর্কই ছিল না। তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়ো সার্ভিস আইডি ও ডিফাইন্ড কন্ট্রিবিউশন পেনশন স্কিম বা ডিসিপিএস আইডি তৈরি করে এই জালিয়াতি চালানো হয়।

এফআইআরে ওই ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ, মন্ত্রক স্তরের কিছু প্রশাসনিক আধিকারিক ও কেরানি যোগসাজশ করে হাজিরা খাতা ও বেতনের নথি জাল করে বহিরাগতদের নাম বেতনভোগীর তালিকায় ঢুকিয়ে দেন। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ৫ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম উঠে এসেছে তাঁরা হলেন প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক রামকিষাণ গোস্বামী, নাগেশ তালভাড়েকর, বিজয়া চাভান, প্রধান কেরানি অজয় রাঠোর এবং উচ্চপদস্থ কেরানি অমল মেশরাম। ইতিমধ্যেই বিজয়া চাভান ও অমল মেশরামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে মুম্বাই পুলিশ। স্থগিতাদেশ চলাকালীন তাঁরা কোনও বেসরকারি চাকরি বা ব্যবসা করতে পারবেন না এবং বিভাগীয় অনুমতি ছাড়া বৃহন্মুম্বাইয়ের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিট কাণ্ডে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ মহারাষ্ট্র সরকারের

তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, ভুয়ো কর্মীদের নামে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি কারা নিয়ন্ত্রণ করত এবং সেই কোটি কোটি টাকার বেতন শেষ পর্যন্ত কার হাতে পৌঁছেছিল তা খতিয়ে দেখা। এই ঘটনার পর শুধু মুম্বাই নয়, গোটা মহারাষ্ট্রেই পুলিশের বেতন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও আর্থিক নজরদারি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।