ডিম-কাণ্ডে ফের আদালতের দ্বারস্থ মহুয়া মৈত্র। নিজের সংসদীয় এলাকায় গিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর হামলার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই অভিযোগ তুলে নিরাপত্তার অভাবের বিষয়টি সামনে এনে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তৃণমূল সাংসদ।
ঘটনার পর দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও সেই আর্জি খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের নির্দেশ, মামলাটি তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে। ফলে দ্রুত শুনানির প্রত্যাশায় থাকা মহুয়া শিবিরকে আপাতত নির্ধারিত তালিকার অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে।
১৬ সেপ্টেম্বর নিজের সংসদীয় এলাকায় যাওয়ার সময় মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয় তীব্র চাপানউতোর। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ।
ঘটনার দিন মহুয়া অভিযোগ করেছিলেন, তেহট্টে ঘরোয়া বৈঠকে যোগ দিতে গেলে বাইরে জড়ো হওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন সাংসদ। তাঁর দাবি, স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতির নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতাতেই বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশের দাবি ছিল, তেহট্টের ওই ঘরোয়া বৈঠকের জন্য আগে থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। পাল্টা মহুয়া জানিয়েছিলেন, পুলিশ সুপার বৈঠকের বিষয়ে অবগত ছিলেন। বিক্ষোভের সময় ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর। মহুয়া জানিয়েছিলেন, তাঁর গাড়িতে ফের ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটলে তিনি আবারও আদালতের দ্বারস্থ হবেন। সেই মতো আদালতের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
এর আগে কৃষ্ণনগর লোকসভা এলাকায় ডিম হামলার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। ১ সেপ্টেম্বর আদালত তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সফরের সময় নিরাপত্তার জন্য দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের পরেও তেহট্টের ঘটনায় সাংসদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেনি আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন, নির্ধারিত তালিকা মেনেই মামলার শুনানি হবে।




