আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। সুতরাং ওই দুই কেন্দ্রে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। এই আবহে হাওড়া স্টেশন থেকে ব্যাগভর্তি নগদ টাকা উদ্ধার করল আরপিএফ। এই টাকার পাহাড় দেখে চক্ষু চড়কগাছ আরপিএফের। এই টাকা কি উপনির্বাচনে কাজে লাগাতে নিয়ে আসা হয়েছিল? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। কারণ হাওড়া থেকে খুব সহজেই পূর্ব মেদিনীপুর যাওয়া যায়। নাকি এই বিপুল টাকার নেপথ্যে অন্য কোনও বিষয় আছে? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
সামনেই দুর্গাপুজো। তাই এখন যাতায়াতে খুব একটা কড়াকড়ি থাকবে না বলেই মনে করেছিল যাত্রী সুজিত কালে। এমন ধারণা নিয়েই মহারাষ্ট্রের এই বাসিন্দা হাওড়া স্টেশনে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে এসেছিল। বান্ডিল বান্ডিল সেই নোট-সহ ধরা পড়ে যায় ওই যাত্রী। আর তারপর এই ঘটনা চাউর হয়ে যায়। তখন থেকেই রাশি রাশি টাকা ধরা পড়া নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সুজিত কালে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা বলেই জেরায় স্বীকার করেছে আরপিএফের কাছে। তার কাছ থেকে নগদ প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও ওই টাকার উৎস নিয়ে সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সুজিত কালে। আরপিএফের অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার করতেই নিয়ে আসা হয়েছিল।
আরপিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সে টহল দিচ্ছিলেন আরপিএফ কর্মীরা। তখনই সুজিত কালের দিকে নজর যায় আরপিএফ বাহিনীর। আর তারা লক্ষ্য করতে থাকেন, সুজিত কালের গতিবিধি বেশ সন্দেহজনক। যদিও তখনও ওই যাত্রীর নাম সুজিত কালে জানত না আরপিএফ। এমনকী তার ব্যাগে বিপুল পরিমাণ নগদ রয়েছে সেটাও জানা যায়নি। এই সন্দেহ থেকেই আরপিএফ কর্মীরা সুজিতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। উত্তর আসে বাঁকা। তাতে সন্তুষ্ট না হওয়ায় সুজিতের ব্যাগে তল্লাশি চালান আরপিএফ কর্মীরা। তখনই ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে রাশি রাশি টাকা। বান্ডিল বান্ডিল নোট গোনার পর ৬৭ লক্ষ টাকা রয়েছে জানা যায়।
তাছাড়া আরপিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সুজিত কালে মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের বাসিন্দা। গয়ার টাউনশিপ এলাকায় তার একটি দোকান আছে। রবিবার রাতে মুম্বাই মেল থেকে হাওড়ায় এসেছে। কলকাতার বড়বাজার থেকে সোনা-রুপো কেনার জন্য টাকা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এই জবাব সন্তুষ্ট করতে পারেনি আরপিএফকে। কারণ ওই বান্ডিল বান্ডিল নোটের উৎস সে জানাতে চায়নি। ওই নগদ টাকার কোনও নথিও সঙ্গে ছিল না। তাই সুজিতকে আটক করে আয়কর দপ্তরকে খবর দেয় আরপিএফ। উদ্ধার হওয়া টাকা এবং আটক ব্যক্তিকে আয়কর দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।




