তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত এবার পৌঁছে গিয়েছে লোকসভার স্পিকারের টেবিলে। বিদ্রোহী সাংসদদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, নাকি দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে… সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলে সংসদ সূত্রে খবর।
স্পিকারের সামনে আপাতত দুটি দাবি। একদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বক্তব্য তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে আলাদা রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকারী। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচিত হয়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যাওয়ার চেষ্টা দলত্যাগ আইনের পরিপন্থী। তাই সংশ্লিষ্ট সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ করা উচিত।
সংসদীয় সূত্রের দাবি, কোনও পক্ষের বক্তব্য না শুনে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না স্পিকার। বিদ্রোহী শিবিরের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকেও নিজেদের অবস্থান লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতও নেওয়া হতে পারে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন স্পিকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কয়েকজন সাংসদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না। লোকসভায় তৃণমূলের সরকারি অবস্থান, বিরোধী রাজনীতির অঙ্ক এবং এনডিএ-র শক্তির সমীকরণ… সবকিছুর উপরই তার প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি মেনে নেওয়া হলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দলত্যাগ আইনের আওতায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কোনও সাংসদ এককভাবে বা শুধুমাত্র সাংসদদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে অন্য দলে মিশে যেতে পারেন না। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী বিষয়টি বিচার হওয়া উচিত।
অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীও নিজেদের দাবিতে অনড়। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁরা স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। সেই দাবির ভিত্তিতেই স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২১ জুলাইয়ের আগে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে তার প্রতীকী গুরুত্বও কম হবে না। কারণ, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের আগে লোকসভায় কোন গোষ্ঠীকে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দেখা হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর সেই কারণেই দিল্লির রাজনৈতিক করিডরে এখন সব নজর স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তের দিকে।




