খালিস্তানি জঙ্গিরা নাশকতা করতে পারে। একাধিক এলাকায় হামলা চালাতে পারে বলে এবার সতর্কতা জারি করল দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। রাজধানী দিল্লি এবং উত্তরাখণ্ডে খালিস্তানি জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে বলে সম্ভাব্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই রাজ্যের মন্দিরগুলিতে হামলা চালাতে পারে খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন বলে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সরকারি অফিস, দপ্তর থেকে শুরু করে রেলওয়ে স্টেশন-সহ থানা এবং পুলিশের কোয়ার্টার, পুলিশের কর্মস্থলে হামলা হতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। সূত্রের খবর, এই হামলা সংক্রান্ত ইমেল হাতে পাওয়ার পর তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই ইমেলের সূত্রেই গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, একাধিক মন্দির, সরকারি অফিস এবং রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। তাই নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখলে চলবে না। বরং নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে হবে।
গোয়েন্দাদের থেকে এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর উত্তরাখণ্ড এবং দিল্লি পুলিশ কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। এই দুই রাজ্যের গোয়েন্দারাও তৎপর হয়ে উঠেছে। যেসব এলাকা স্পর্শকাতর সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে গোটা বিষয়টি। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই ইমেল খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি ইমেলের উৎস খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে। এই ইমেলের উপর তদন্তও শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
তাছাড়া এই ধরণের সতর্কবার্তা চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও জারি করা হয়েছিল। তখন অবশ্য প্রজাতন্ত্র দিবস ছিল। ২৬ জানুয়ারি সামনে ছিল বলেই এমন সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। কারণ বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন এবং খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন নয়াদিল্লিকে টার্গেট করেছিল। সেই তথ্য হাতে পেয়েই জারি করা হয়েছিল সতর্কবার্তা। তারপর ফেব্রুয়ারি মাসেও গোয়েন্দা সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। কারণ তখন লালকেল্লাকে নিশানা করে হামলা ছক কষে্ছিল জঙ্গি সংগঠনগুলি। রাজধানীর চাঁদনি চক এলাকার মন্দিরও উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ধর্মীয় জায়গাগুলিতে এবং চাঁদনি চক-সহ লালকেল্লাকে টার্গেট করতে চায় জঙ্গিরা। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা নানা ছক কষেছিল ভারতের রাজধানীকে আক্রমণ করার। এবার আবার খালিস্তানি জঙ্গিরা সেই পরিকল্পনা করেছে। যার জন্য নিরাপত্তা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান এখন কাছাকাছি এসেছে। তাই কোনও নাশকতার ছক তারা করে থাকতে পারে। যা নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে তারা প্রতিশোধ নিতে নানা ছক কষেছে। যদিও বাস্তাবায়িত হয়নি। এবার খালিস্তানি জঙ্গিদের পিছনে পাকিস্তানের হাত আছে কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে প্রস্তুত থাকছে নিরাপত্তা বাহিনী।




