• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 14 August, 2026

‘লালকেল্লাকে নিশানা করা হবে’, স্বাধীনতার দিবসের প্রাক্কালে এলো বিস্ফোরণের হুমকি

ফেস রেকগনিশন সিস্টেম, নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ এবং ভিডিও অ্যানালিটিক্সের সাহায্যে সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ

‘লালকেল্লাকে নিশানা করা হবে’, স্বাধীনতার দিবসের প্রাক্কালে এলো বিস্ফোরণের হুমকি

Red Fort Security Photo-SNS

রাত পোহালেই স্বাধীনতা দিবস। আর ঠিক তার প্রাক্কালে লালকেল্লায় বিস্ফোরণ ঘটানো হবে বলে হুমকি এলো। এই হুমকি বার্তা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই বিস্ফোরণের হুমকি বার্তা পাওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বোমা হামলার হুমকি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লি হাইকোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-সহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল জায়গায় হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। দিল্লি হাইকোর্টে পাঠানো ই-মেলে লালকেল্লাকেও নিশানা করার কথা উল্লেখ করা হয়। এই হুমকি পাওয়ার পরই সমস্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তল্লাশিও।

শুক্রবার সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্টে হুমকি-ইমেল আসে। ‘৩০ এমবি বিস্ফোরণ’ শিরোনামে উল্লেখ করা ওই ই-মেলে ১৫ আগস্ট লালকেল্লা-সহ নানা সংবেদনশীল এলাকায় হামলার হুমকি দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের নির্দিষ্ট সময় হিসাবে দুপুর ২টো ১১ মিনিটের উল্লেখ ছিল। ই-মেলে হামলায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের খাঁকি পোশাক পরার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হুমকি পাওয়ার পর দিল্লি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল পুলিশকে জানান। বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড তল্লাশি চালালেও শেষ পাওয়া খবরে সন্দেহজনক কোনও কিছু মেলেনি। হুমকি বার্তায় ‘খালিস্তান’ শব্দটির উল্লেখ রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস সূত্রে খবর, হাইকোর্ট ছাড়াও জামনগর হাউস, ঝান্ডেওয়ালান ফ্ল্যাটেড ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্স, এমবি সাকেতের অফিস বা ডিএম অফিস, আইজিআই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এসডিএম অফিসে বোমা হামলার হুমকি পাওয়া গিয়েছে। প্রতিটি জায়গাতেই দমকলের গাড়ি পাঠানো হয় এবং তল্লাশি শুরু করা হয়। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এমনিতেই রাজধানী জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি দিল্লিতে প্রবেশ ও বেরোনোর পথগুলিতে অতিরিক্ত নাকা তল্লাশি চলছে। জনবহুল এলাকা এবং যেখানে মানুষের চলাচল বাড়তে পারে, সেখানেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী দিল্লিকে। লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে চাইছে না দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

জানা গিয়েছে, লালকেল্লা ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন থাকছে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী।লালকেল্লা ইন্ডিয়া গেট, কনট প্লেস, আইজিআই বিমানবন্দর এবং নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকাগুলিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে ১ হাজারেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। সংলগ্ন ভিভিআইপি এলাকার ১০ হাজারেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার উপর নজর রাখা হচ্ছে পুলিশের তরফে। ফেস রেকগনিশন সিস্টেম, নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ এবং ভিডিও অ্যানালিটিক্সের সাহায্যে সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। অতন্দ্র প্রহরায় থাকছে কুইক রেসপন্স টিম, বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনী এবং অ্যান্টিড্রোন ব্যবস্থা।শুধু দিল্লি নয়, সংলগ্ন গুরুগ্রামেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পুলিশ গুরুগ্রামে মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা জেলায় চেকপয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে ১১টি। অন্যান্য সেবেদনশীল এলাকাগুলিকেও নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে।এর আগে ৩ আগস্ট দিল্লির মেয়রের কার্যালয়েও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। একই দিনে রাজধানীর একাধিক স্কুলেও হুমকিবার্তা আসে। ৩১ জুলাই গুরুগ্রামের ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়, হরিয়ানা আদালত ও কয়েকটি স্কুলেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।