• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 17 August, 2026

মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বেধড়ক মার খেলেন নববধূ, খুনের চেষ্টার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

স্বামীর বাড়িতে মানসিক নির্যাতন চলত বলেও অভিযোগ ওই যুবতীর। সেসব মানিয়ে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন তিনি

মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বেধড়ক মার খেলেন নববধূ, খুনের চেষ্টার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

Husband Torture Wife Photo-SNS

বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন নববধূ। আন্দামান ও নিকোবর দীপপুঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন যুবক-যুবতী। তারপর হোটেলে ফিরে এসে একে অপরের কাছাকাছি আসেন। কিন্তু বিছানাতেই তাল কাটল। হঠাৎ সুখানুভূতির সময় নববধূর পিরিয়ড হয়ে যায়। আর তাতেই মেজাজ হারান স্বামী। তখন স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন স্বামী বলে অভিযোগ। এমনকী গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা করেন স্বামী বলে অভিযোগ তুলেছেন নববধূ। মধুচন্দ্রিমায় এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হবে তা কল্পনাও করতে পারেননি নববধূ। স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ তুললেন উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের ওই নববধূ।

পিরিয়ড হয়ে যাওয়ায় সঙ্গম-সহবাস ব্যর্থ হয়। তাতেই স্বামীর হাতে এভাবে নির্যাতন সহ্য করতে হয় নববধূকে। এমনকী মেজাজ হারিয়ে খুন করার চেষ্টা করলে বধূ চিৎকার করেন। আর তা শুনে হোটেলের কর্মীরা ছুটে এসে নববধূকে উদ্ধার করেন। এই নির্যাতনের ঘটনায় শুধু বধূর স্বামী নয়, শাশুড়ি এবং ননদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। নির্যাতিতার দাবি, তাঁর স্বামী দিল্লির বাসিন্দা নিখিল মিশ্র। ২০২৩ সালের ৩০ মে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে ২ জুন তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। বিয়ের আগে থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর পরিবারের দেওয়া সামগ্রী নিয়ে নানা কটূক্তি করছিলেন এবং ব্র্যান্ডেড সামগ্রী দেওয়ার দাবি করেছিলেন।

স্বামীর বাড়িতে মানসিক নির্যাতন চলত বলেও অভিযোগ ওই যুবতীর। সেসব মানিয়ে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এমন যে ঘটবে সেটা আগে থেকে বোঝা যায়নি। পিরিয়ড কারও হাতে থাকে না। সেটা বোঝার চেষ্টা না করে নিজের ইচ্ছা বাস্তবায়িত না হওয়ায় এমন মারমুখী হয়ে ওঠে স্বামী নিখিল। পরিস্থিতি যে প্রাণে মেরে ফেলার দিকে পৌঁছবে সেটা কল্পনা করা যায়নি বলে অভিযোগ নির্যাতিতার। বিয়ের সময় যুবতীর বাবা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, একটি গাড়ি এবং প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের অন্যান্য সামগ্রীও পণ হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পরেও সেসব নিয়ে তাঁকে নিয়মিত অপমানিত এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করা হতো বলে অভিযোগ।

তাছাড়া খারাপ কথা বলতেন শাশুরি এবং ননদ। এই পরিস্থিতি সামলে বিয়ের প্রায় একমাস পরে ৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশ্যে স্বামীর সঙ্গে আন্দামানে যান নববধূ। সেখানে পৌঁছে নানা জায়গা ঘুরে হোটেলে ফেরেন তাঁরা। তারপর বিছানায় পৌঁছে যান তাঁরা। তখনই বধূর পিরিয়ড অর্থাৎ ঋতুস্রাব হয়ে যায়। তাঁর প্রচণ্ড পেটে ব্যথা করতে থাকে। এই বিষয়টি জেনেই স্বামী মারাত্মক রেগে যান। আর স্বামী প্রশ্ন করেন, কেন আগে থেকে পিরিয়ডের কথা জানাননি? এই বলে তাঁকে ‘মুড নষ্ট করে দেওয়ার’ জন্য দায়ী করে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। চড়, ঘুষি, লাথি এবং তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। স্বামী এরপর স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি আর তাঁর সঙ্গে থাকতে চান না। দিল্লিতে ফেরার পর ওই বধূর শাশুড়ি এবং ননদকে ঘটনার কথা জানান। কিন্তু বধূর অভিযোগ, তাঁরা তাঁকে সাহায্য না করে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। আর বিয়ের মাত্র ৪৫ দিনের মাথায়, ১৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। মাঝে নানা দরজায় কড়া নাড়লেও কেউ সাহায্য করেনি। অবশেষে গোরক্ষপুরের এসএসপি ড. কৌস্তুভের হস্তক্ষেপে ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মামলা নথিভুক্ত হয়।