• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 17 August, 2026

মনসা পুজোয় ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার, বঙ্গে প্রথমবার অর্ধদিবস উদযাপন

এখন রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেশ কিছু নতুন ছুটিও সংযোজন হয়েছে ওই তালিকায়

মনসা পুজোয় ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার, বঙ্গে প্রথমবার অর্ধদিবস উদযাপন

Nabanna Photo-SNS

মনসা পুজোর জন্য এবার ছুটি ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আগামী ১৮ আগস্ট মনসা পুজোর জন্য দুটি জেলায় অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই মঙ্গলবার মনসা পুজো থাকায় রাজ্যে অনেকের বাড়িতেই পুজো হবে। যদিও শহর কলকাতায় এই পুজোর চল অত্যন্ত কম। গ্রামবাংলার প্রায় অনেকের বাড়িতেই এই পুজো হয়ে থাকে। আর তাই সরকারি দপ্তরগুলিতে ছুটি ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে সব জেলায় এই ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। শুধু মনসা পুজো উপলক্ষ্যে বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।

এই ঘোষণার কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে এই দুই জেলায়। কারণ বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় মঙ্গলবার সব সরকারি অফিস, স্থানীয় প্রশাসনের অফিস, সব সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুপুর ২টোয় বন্ধ হয়ে যাবে। রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা সব প্রতিষ্ঠানেই অর্ধদিবস ছুটি কার্যকর হবে। বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার সমস্ত রাজ্য সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকার জেরে দুপুর থেকে সকলে উৎসবে মেতে উঠবেন। এই ছুটির আওতায় রাখা হয়েছে, রাজ্য সরকারের সমস্ত সরকারি অফিস, স্থানীয় সংস্থা, স্ট্যাটুটরি বডি, বোর্ড ও কর্পোরেশন, সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার থাকাকালীন নানা ধরনের সরকারি ছুটি দেওয়া হতো। দুর্গাপুজোর সময় দীর্ঘ ছুটি পেতেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। একইসঙ্গে জেলাগুলিতে আঞ্চলিক যেসব উৎসব হয়, প্রায় সেসব উৎসবেই ছুটি ঘোষণা করতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেশ কিছু নতুন ছুটিও সংযোজন হয়েছে ওই তালিকায়। যেমন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের দিন কোনও দিনও রাজ্যে সরকারি ছুটি দেওয়া হতো না। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই ঘোষণা করেন। কিছু ছুটি কমিয়েও দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময় বকরি ইদে দুটি ছুটি দেওয়া হতো। তবে এবার সেটা কমিয়ে একদিন করা হয়েছে। এবার নতুন ছুটির তালিকায় সংযোজন হলো মনসা পুজোর ছুটি।

উল্লেখ্য, প্রত্যেক বছর শ্রাবণ মাসের শেষ বা ভাদ্র মাসের শুরুতে মনসা পুজো হয়। যদিও তারিখ এবং অঞ্চলভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হয়। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় চলছে মনসা পুজোর প্রস্তুতি। বাজারে ভিড় বাড়ছে ফুল, ধূপ, বেলপাতা, দুধ ও ফল কেনার জন্য। মাটির বা কাঠের আসনে সাজানো হচ্ছে মনসা দেবীর প্রতিমা বা ছবি, সঙ্গে নাগ-নাগিনীর প্রতীক। হিন্দু ধর্মবিশ্বাসে মনসা দেবীকে সাপের দেবী বা নাগদেবী হিসেবে পুজো করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, মনসা দেবীর কৃপায় সাপের দংশন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, রোগ-শোক দূর হয় এবং পরিবারে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। বিশেষ করে গ্রামবাংলায় এই পুজোর সামাজিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। পুজোর দিন ভোরবেলা ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ করা হয়। পুরোহিত দেবীর আসন সাজিয়ে ফুল, বেলপাতা, চন্দন, হলুদ, দুধ, মধু ও ফল-মূল নিবেদন করেন। অনেক জায়গায় ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের পাঠ করা হয়।