জাতীয় রাজনীতির পর এবার রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন ছবি দেখা গেল। আর তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শুক্রবার দিল্লির লোক কল্যাণমার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদরা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানও। সেদিন আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিদ্রোহী বিধায়কদের কয়েকজন দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। এবার শনিবার আবু তাহের এবং খলিলুর রহমান গেলেন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে! পর পর এমন ছবি নানা গুঞ্জনের জন্ম দিচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর থেকেই প্রতিনিয়ত ছবি বদল হতে থাকছে। এনসিপিআই সাংসদরা ছুটে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। আর বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিধায়করা যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এই আবহে পৃথকভাবে এনসিপিআই-এর দুই সাংসদ নবান্নে এসে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন এবং বৈঠক করলেন। যা নানা গুঞ্জন তৈরি করেছে। কদিন ধরেই মুর্শিদাবাদের এই তিন সংখ্যালঘু সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জোর চর্চা চলছিল। কারণ তাঁরা এনডিএ শিবিরে সামিল হওয়া নিয়ে দ্বিধার কথা জানিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন এই তিনজন সাংসদ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আবার হাজির ছিলেন।
তাহলে এমন কী প্রয়োজন পড়ল পৃথক বৈঠকের? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন ওই তিন সাংসদ। সেখানে শতাব্দী রায় এবং অসিত মালও উপস্থিত ছিলেন। আর শুক্রবার সোজা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছে যান তাঁরা। সেখানেও একপ্রস্থ কথাবার্তা হয়। এই আবহে শনিবারই কাউকে কিছু না জানিয়ে নবান্নে পৌঁছে গেলেন আবু তাহের এবং খলিলুর রহমান। সাংসদ পদ খারিজ হতে পারে বুঝতে পেরেই এমন দৌড়াদৌড়ি বলে মনে করছেন অনেকে।
নয়াদিল্লিতে যেমন দৌড়াদৌড়ি চলছে সাংসদদের তেমন রাজ্যে চলছে বিধায়কদের দৌড়। আসলে এঁরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এমন সংগ্রাম করছেন বলে সূত্রের খবর। প্রধানমন্ত্রী এনসিপিআই সাংসদদের দুটি কথা বলেছিলেন। এক, নিজেদের এলাকায় গিয়ে কাজে মন দিন। দুই, চিন্তা করার দরকার নেই। আমি আপনাদের পাশে আছি। এই দুটি বাক্য বলেছিলেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু তারপরও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দুই সাংসদকে পৃথকভাবে বৈঠক করতে হলো কেন? যার উত্তর দেননি এই সাংসদরা। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই সাংসদরা সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘আমরা মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি। রাজ্যে সংখ্যালঘুরা নানাভাবে অত্যাচারিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত জানিয়েছি।’ মুখ্যমন্ত্রীকে কী জানালেন? সেটা সময় বলবে।




