• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 17 August, 2026

সই জাল কাণ্ডে স্বস্তিতে অভিষেক, নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল রক্ষাকবচ, সিআইডি-কে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

৮০ জন বিধায়কের সই করার কথা ছিল। সেখানে যে সইগুলি করা হয় তাতে জালিয়াতি হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। আর তারপরই স্পিকারকে অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। স্পিকার এই চিঠি পেয়ে ঘটনাটি নিয়ে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন।

সই জাল কাণ্ডে স্বস্তিতে অভিষেক, নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল রক্ষাকবচ, সিআইডি-কে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

Image: SNS

বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের রক্ষাকবচ বহাল রাখা হল। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র এমনই নির্দেশ দিয়েছেন।

সই জালকাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিআইডির তদন্ত রিপোর্টে যে তাঁকে ‘দোষী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে আপাতত সন্তুষ্ট নয় কলকাতা হাইকোর্ট। বরং তদন্তে আরও গভীরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়াল আদালত। ফলে এই মামলায় এখনই অভিষেককে গ্রেপ্তারির আশঙ্কা থাকছে না।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের কিছুদিন পরেই সামনে আসে সই জাল করার অভিযোগ। অভিযোগ, তৃণমূলের একটি বৈঠকে কয়েকজন বিধায়ক উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের সই করা হয়েছিল। সেই সই-সম্বলিত রেজোলিউশন বিধানসভায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ওই রেজোলিউশনে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সইও ছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে তদন্তভার নেয় সিআইডি।

তদন্তে অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সিআইডি। রিপোর্টে তাঁকে কার্যত দায়ী করার চেষ্টা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় কার্যত ‘না’ বলেছে হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও বৈঠকে কারও অংশগ্রহণ থাকলেই তিনি জাল নথি তৈরি করিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। অর্থাৎ, বৈঠকে উপস্থিতি এবং জাল নথি তৈরির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র প্রমাণ করা প্রয়োজন।

তদন্ত নিয়ে আদালতের তরফে সিআইডিকে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতির মন্তব্য, ‘কেউ হাত বেঁধে দেয়নি, তদন্ত করুন। সমস্যা নেই।’ অর্থাৎ তদন্ত থামছে না, তবে শুধুমাত্র অনুমান বা উপস্থিতির ভিত্তিতে অভিষেককে দায়ী করার যুক্তি আদালত এখনই মেনে নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আপাতত স্বস্তিতে অভিষেক। নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রক্ষাকবচ। তবে তদন্তের দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। ফলে আগামী দিনে সিআইডি কী নতুন তথ্য আদালতের সামনে হাজির করে সেটাই দেখার।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কে বিরোধী দলনেতা হবেন সেটা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক বসেছিল। সেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। তারপর ৮০ জন বিধায়কের সই করার কথা ছিল। সেখানে যে সইগুলি করা হয় তাতে জালিয়াতি হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। আর তারপরই স্পিকারকে অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। স্পিকার এই চিঠি পেয়ে ঘটনাটি নিয়ে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। তারপর থেকে জল গড়াতে থাকে।

আরও পড়ুন: ৪ থেকে বেড়ে ৩৯টি এফআইআর, বিপদ কাটাতে হাইকোর্টের দারস্থ তৃণমূল বিধায়ক

ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় এবং পরে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করে। সিআইডি তদন্ত করতে গিয়ে বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তের স্বার্থে অভিষেককে নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। তখন আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল। তবে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে মূল এফআইআরকেই বাতিল করার আবেদন জানান। সেই সময়ে বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়ে দেন, একমাস তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। এরপরে সোমবার ফের কলকাতা হাইকোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।