শনিবার সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত-ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচ। ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না বিধাননগর পুলিশ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাঠোর অমিত কুমার ভরত জানান, দর্শকদের সুবিধা এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একাধিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। ম্যাচের দিন যুবভারতী ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন থাকবে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামে বেশ কিছু সামগ্রী নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মাদকজাতীয় দ্রব্যের পাশাপাশি লেজার লাইট, আতশবাজি, স্মোক ক্যান্ডেল, লাইটার, সিগারেট ও অন্য দাহ্য পদার্থ নিয়ে মাঠে ঢোকা যাবে না। নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে ব্যানার, হোর্ডিং, পোস্টার, ছাতা, জলের বোতল, খাবার, ধারালো বস্তু এবং অস্ত্রও। মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রবেশের সময় ত্রিস্তরীয় তল্লাশি এবং ডিজিটাল টিকিট যাচাই করা হবে।
গত বছর মেসিকাণ্ড ঘিরে কলকাতার অব্যবস্থা আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। গোটা বিশ্বের নজরে এসেছিল যুবভারতী ঘিরে বিশৃঙ্খলার ছবি। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে কোনও ভাবেই না হয়, তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দিয়েছে পুলিশ।
ম্যাচ ঘিরে পৃথক ট্রাফিক নির্দেশিকাও জারি করেছে বিধাননগর পুলিশ। ম্যাচের দিন প্রধান সড়কগুলিতে কোনও ধরনের গাড়ি পার্ক করা যাবে না। দর্শকদের নির্ধারিত প্রবেশপথ, নামানোর জায়গা এবং পার্কিং এলাকা ব্যবহার করতে হবে। অননুমোদিত জায়গায় গাড়ি রাখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যানজট এড়াতে দর্শকদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে আগেভাগেই স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পরামর্শ, ম্যাচ শুরুর অন্তত দু’ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ বিকেল পাঁচটার মধ্যে দর্শকদের স্টেডিয়ামে পৌঁছে যেতে হবে। ম্যাচ শেষে তাড়াহুড়ো করে বেরোনোর চেষ্টা না করে পুলিশকর্মীদের নির্দেশ মেনে শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে স্টেডিয়াম ছাড়তে বলা হয়েছে। নির্ধারিত বেরোনোর পথ এবং সাময়িক যান চলাচল পরিবর্তনের নির্দেশও মেনে চলতে হবে।
ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা দর্শকদের নির্ধারিত পার্কিং ব্যবহার করতে এবং সম্ভব হলে দলবদ্ধ ভাবে আসার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। যানজট কমাতে মেট্রো, রেল-সহ গণপরিবহণ ব্যবহারের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। চালকদের রাস্তার নির্দেশক এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে ধৈর্য ধরে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি দর্শকদের মোবাইল ফোন পর্যাপ্ত চার্জ দিয়ে নিয়ে আসতে এবং পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। ম্যাচের উত্তেজনার পাশাপাশি স্টেডিয়াম ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।




