নিঠারি মামলা (Nithari Case) থেকে খালাস পেয়েছিলেন সুরেন্দ্র কোলি (Surendra Kohli)। খালাস পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে হরিদ্বার থেকে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হয় তাঁর (Surendra Kohli) মৃতদেহ। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে। কিন্তু সুরেন্দ্রের (Surendra Kohli) দাদা চন্দন কোলি দাবি করেছেন, এটি আত্মহত্যা কি না, তা নিয়ে তাঁদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার হরিদ্বারের সপ্তর্ষি এলাকায় একটি চায়ের দোকান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সুরেন্দ্র কোলির (Surendra Kohli) দেহ। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শনিবার সুরেন্দ্রের (Surendra Kohli)দেহ দেখানো হয় তাঁর দাদাকে। দেহ দেখার পর সন্দেহ আরও বাড়ছে বলে দাবি করেছেন সুরেন্দ্রর দাদা।
এক সংবাদ মাধ্যমকে চন্দন জানিয়েছেন, দেহ থেকে রক্ত বেরোতে দেখা গিয়েছিল এবং মুখ ও নাকেও রক্তের দাগ ছিল। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি দেখে পরিবারের মনে হয়েছে, সুরেন্দ্র আত্মহত্যা করেছেন, তা নিশ্চিত নয়। কেউ তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী হলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে আটকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৫৬ বছরের ব্যক্তি
তবে পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সার্কেল অফিসার (নগর) শিশুপাল সিং নেগি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য আত্মহত্যার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি সপ্তর্ষি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে সুরেন্দ্রের (Surendra Kohli) সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
প্রায় দুই দশক জেলে থাকার পর ২০২৫ সালে নভেম্বরে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি (Surendra Kohli)। জেল থেকে বেরোনোর পর তিনি চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং দিল্লিতে ছিলেন। চলতি বছরের জুনে কয়েক দন দাদার কাছেও ছিলেন। পরে উত্তরাখণ্ডে গিয়ে রোশনাবাদ এলাকায় থাকার জায়গা খোঁজেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে বার বার পরিচয়পত্র বা আধার কার্ড দেখাতে বলা হয়েছিল। নিজের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি আধার দেখাতেন বলে জানা গিয়েছে। জেল থেকে মুক্তির পর আর্থিক সমস্যার মধ্যেও ছিলেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় কাজের সন্ধান করছিলেন এবং রোশনাবাদে দু’টি জায়গায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজও করেছিলেন।
তবে কোনও কাজেই দীর্ঘদিন করতে পারেননি। পরিচিতদের দাবি, নিজের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সব সময়ই উদ্বেগে থাকতেন সুরেন্দ্র। মৃত্যু মাত্র তিন দিন আগে হরিদ্বারের সপ্তর্ষি এলাকায় একটি চায়ের দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম মুক্তির পর হরিদ্বারে মৃত নিঠারি কাণ্ডের অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলি
নিঠারি কাণ্ডে দীর্ঘ আইনি লড়াই
২০০৫-০৬ সালে উত্তরপ্রদেশের নিঠারি এলাকায় (Nithari Case) একের পর এক শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণী নিখোঁজ হতে শুরু করে। ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিঠারির (Nithari Case) ব্যবসায়ী মণীন্দ্র সিং পান্ধেরের বাড়ির পিছনের এলাকা ও নালা থেকে ১৯টি কঙ্কাল এবং দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
নিখোঁজ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদেহ অপহরণ করে যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং খুন করে তাঁদের দেহের অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। সুরেন্দ্র কোলির (Surendra Kohli) স্বীকারোক্তিতেও একাধিক গুরুতর তথ্য উঠে আসে। তবে পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় সেই স্বীকারোক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই ঘটনায় মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৬টি মামলায় চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। সুরেন্দ্র কোলির (Surendra Kohli) বিরুদ্ধে ১৩টি মামলায় বিচার চলেছিল। ২০২৩ সালে ১৬ অক্টোবর এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১২টি মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস করে। পরে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টও ওই ১২টি মামলায় একই রায় বহাল রাখে।
এর মধ্যে রিম্পা হালদার হত্যা মামলায় তাঁর সাজা বহাল রাখা হয়েছিল। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ডর সাজা বহাল রাখে। পরে ২০১৫ সালে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে সেই মামলাতেও সুরেন্দ্রের (Surendra Kohli) আবেদন গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট এবং মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। ১১ নভেম্বর তাঁকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১৯ বছর কারাবন্দি থাকার পর নভেম্বরে জেল থেকে ছাড়া পান সুরেন্দ্র কোলি (Surendra Kohli)।
দেখুন:




