• facebook
  • twitter
Tuesday, 31 March, 2026

অর্থ আইন কার্যকর, নতুন অর্থবর্ষের বাজেট প্রস্তাবে আইনি সিলমোহর

আগামী অর্থবর্ষে তা আরও কমিয়ে ৫৫.৬ শতাংশে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে সুদের খরচ কমবে এবং উন্নয়নমূলক কাজে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে।

নতুন অর্থবর্ষের ঠিক আগেই কেন্দ্র সরকার ‘অর্থ আইন ২০২৬’ কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট প্রস্তাবগুলি আইনি ভিত্তি পেল। আইন ও বিচার মন্ত্রকের তরফে জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পরই এই আইন কার্যকর হয়েছে। এর ফলে ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবর্ষে বাজেটের সমস্ত আর্থিক প্রস্তাব কার্যকর হবে।

এর আগে সংসদের দুই কক্ষেই ‘ফাইন্যান্স বিল ২০২৬’ অনুমোদিত হয়। লোকসভায় ২৫ মার্চ ৩২টি সংশোধনীসহ বিলটি পাশ হয়। পরে রাজ্যসভায় সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর কণ্ঠভোটে তা ফেরত পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পূর্ণ হয় আইন প্রণয়নের ধাপ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সংসদে তাঁর বাজেট প্রস্তাবের পক্ষে সওয়াল করে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

Advertisement

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫৩.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ৭.৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে মূলধনী ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা, যা বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পে গতি আনতে সাহায্য করবে। আগের বছরের তুলনায় এই খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ২.২ লক্ষ কোটি টাকা।

Advertisement

সরকার জানিয়েছে, বড় প্রকল্পগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিতে ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিস্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ গঠন করা হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজকোষ ঘাটতি জিডিপির ৪.৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার বাজার থেকে ১১.৭ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে পরিকল্পনা করেছে, যেখানে মোট বাজার ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭.২ লক্ষ কোটি টাকা।

বাজেটে রাস্তা, বন্দর, রেল ও বিদ্যুৎ— এই সমস্ত ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ২০২৫-২৬ সালে ৫৬.১ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী অর্থবর্ষে তা আরও কমিয়ে ৫৫.৬ শতাংশে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে সুদের খরচ কমবে এবং উন্নয়নমূলক কাজে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে।

সরকারের দাবি, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই জনবিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে দেশ।

Advertisement