দেশজুড়ে উদযাপন হচ্ছে স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ (80th Independence Day)। আর সেখান থেকেই মাওবাদ ও নকশালবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) । তাঁর দাবি, দেশে সশস্ত্র মাওবাদীদের সংখ্যা কমেছে। তবে মাওবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু মানুষ এখনও সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে এবং এদের প্রভাব থেকে সমাজকে দূরে রাখার ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)।
লালকেল্লা থেকে ভাষণে ২০১৪ সালের প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, ক্ষমতায় আসার পরই দেশকে মাওবাদমুক্ত করার সংকল্প নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য (Narendra Modi), দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসা ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে গত এক দশকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘শক্তির সপ্তধারা’য় ভর করে ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতের লক্ষ্য, বার্তা মোদীর
প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বলেন, সশস্ত্র মাওবাদী কার্যকলাপ অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। তবে মাওবাদী চিন্তাধারার প্রভাব এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে এদিন তিনি (Narendra Modi)জানান। এই ধরনের মতাদর্শ যাতে সমাজের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেন মোদী (Narendra Modi)।
মাওবাদী হিংসার কারণে সাধারণ মানুষ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। তাঁর দাবি, কয়েক দশক ধরে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিংসা ও সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে বহু তরুণের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রসত্ হয়েছে এবং বহু পরিবার স্বজন হারিয়েছে। মাওবাদ বিরোধী অভিযানে প্রাণ হারানো নিরাপত্তারক্ষীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি (Narendra Modi)।
আরও পড়ুন: তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বিকশিত ভারত, স্বাধীনতা দিবসে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
মোদীর (Narendra Modi) বক্তব্যে উঠে এসেছে তরুণ প্রজন্মকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও (80th Independence Day)। তাঁর মতে, যুবসমাজকে হিংসা ও বিভাজনের পথ থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাওবাদী মতাদর্শের প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত রাখার উপর জোর দেন তিনি (Narendra Modi)।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদমুক্ত করার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মাওবাদী প্রভাবিত বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গত এক বছরের বহু সশস্ত্র মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তাঁদের সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতার মৃত্যু হয়েছে। আবার বেশ কিছু নেতা অত্মসমর্পণও করেছেন। এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)।
দেখুন: প্রথমবার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’




