• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 14 September, 2026

এক ফ্রেমে মোদি-পুতিন-শি, দিল্লিতে ব্রিক্‌সের নতুন শক্তির বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ব্রিক্‌সকে বিশেষ পছন্দ করেন না, তা বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চিনকে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। সেই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পর পর দু’দিন একই ফ্রেমে থাকা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে

এক ফ্রেমে মোদি-পুতিন-শি, দিল্লিতে ব্রিক্‌সের নতুন শক্তির বার্তা

Image: SNS

ব্রিক্‌স (BRICS)সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ফের একই ফ্রেমে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে (Xi Jinping)। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিন দেশের রাষ্ট্রনেতার একসঙ্গে এই উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, ব্রিক্‌সের (BRICS) তিন গুরুত্বপূর্ণ শক্তির এই মিলিত ছবি শুধু সৌজন্য বিনিময়ের প্রতীক নয়, বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জোটটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরও ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ব্রিক্‌সকে (BRICS) বিশেষ পছন্দ করেন না, তা বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চিনকে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। সেই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পর পর দু’দিন একই ফ্রেমে থাকা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, এই ছবি ব্রিক্‌সের (BRICS) তিন প্রধান শক্তির পারস্পরিক সমন্বয় এবং প্রভাবের একটি দৃশ্যমান বার্তা বহন করছে।

আরও পড়ুন: ব্রিকস ঘোষণাপত্রে ঐক্যমত, বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের

শনিবারও শি (Xi Jinping) এবং পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার ফের তিন রাষ্ট্রনেতার ছবি সামনে এসেছে। শনিবার ১১ দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত যৌথ ছবিতেও মোদীর দুই পাশে ছিলেন পুতিন (Vladimir Putin) এবং শি (Xi Jinping)। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের একসঙ্গে ছবি তোলা অবশ্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই তিন নেতার একসঙ্গে ছবি বরাবরই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। গত বছর চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনেও একই ফ্রেমে দেখা গিয়েছিল তাঁদের। সেই ছবি নিয়েও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কটাক্ষ করেছিলেন।

এ বারের ব্রিক্‌স(BRICS) সম্মেলনের আগে এবং সম্মেলন চলাকালীন দিল্লি-মস্কো ও দিল্লি-বেজিং সম্পর্কের দিকটিও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। শনিবার চিনা প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, গালওয়ান সংঘাতের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কে যে শৈত্য তৈরি হয়েছিল, গত দু’বছরে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রিকস থেকে ভারত কী পেল? দিল্লির কূটনীতির আসল সাফল্য কোথায়

এরই মধ্যে মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্রিক্‌স(BRICS) কোনও দেশের বিরুদ্ধে তৈরি জোট নয়। ১১ দেশের এই মঞ্চের লক্ষ্য সহযোগিতা বাড়ানো এবং সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা। কিন্তু সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে আমেরিকার একতরফা শুল্কনীতির সমালোচনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা তৈরির বিরুদ্ধে অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

ঘোষণাপত্রে পশ্চিম এশিয়া ও গাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানকে ঘিরে আমেরিকার সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা এবং গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান— দুই পরিস্থিতিরই আন্তর্জাতিক প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি পহেলগাম হামলার নিন্দাও জানিয়েছে ব্রিক্‌স (BRICS)। ভারত প্রথম থেকেই ওই হামলার জন্য পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের দায়ী করে আসছে। চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে যৌথ ঘোষণাপত্রে পহেলগাম হামলার নিন্দা এবং তাতে শি-র সম্মতি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

দেখুন: