নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে লড়াই করার জন্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। জল্পনা ছিলই যে নন্দীগ্রামে হয়তো প্রার্থী হতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তিনি নিজে লড়াই করলে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল যে প্রার্থী দেবে না তাও স্পষ্ট করেছিল।
তবে দেখা গেল ভোটের ময়দান থেকে সরে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে সঞ্চিতা প্রধান দে কে। আর রেজিনগরে লড়বেন রবিউল আলম চৌধুরী।
All India Trinamool Congress, under the guidance and inspiration of our Hon’ble Chairperson Smt @MamataOfficial, is pleased to announce the candidates for the upcoming Nandigram & Rejinagar bye-elections.
We wish Smt Sanchita Pradhan (Dey) and Shri Rabiul Alam Chowdhury the very best for this journey. May they carry forward the hopes and aspirations of the people with strength and determination.
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) September 13, 2026
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী, দুটি আসনের মধ্যে একটি ছাড়তেই হত তাঁকে। শেষ পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক গড় নন্দীগ্রামকেই ছেড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে এবার হতে চলেছে উপনির্বাচন।
একই ভাবে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্রও বিধায়কশূন্য হয়েছে। ওই দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। ফলে তিনটি কেন্দ্রই এখন উপনির্বাচনের অপেক্ষায়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর এই তিন কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ হবে।
তবে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি নজর নন্দীগ্রামের দিকে। কারণ, এই কেন্দ্র থেকেই একসময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চমক তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের ভোটে মুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে যাওয়া আসনে এবার কাকে প্রার্থী করবে তৃণমূল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল।
এর পিছনে রয়েছে তৃণমূলের অন্দরের তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও। দল বর্তমানে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত। একদিকে কালীঘাটের মমতাপন্থী শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী গোষ্ঠী। দুই পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে। ঋতব্রতপন্থীদের দাবি, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে দলের প্রতীক নিয়েও দুই শিবিরের মধ্যে চলছে টানাপড়েন।
এই আবহেই জোরালো হয়েছিল নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, নিজের পুরনো লড়াইয়ের ময়দানে ফের নেমে জিতে আসতে পারলে দলের ভিতরে তাঁর কর্তৃত্ব আরও জোরালো হবে। এমনকি মমতা প্রার্থী হলে নন্দীগ্রামে প্রার্থী না দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল ঋতব্রতপন্থী শিবির।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটলেন না কালীঘাটের তৃণমূল নেত্রী। ফলে নন্দীগ্রামে ফের সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও আপাতত ফিকে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় নিয়ে কার্যত আত্মবিশ্বাসী ঋতব্রতপন্থী বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর দাবি, ব্যবধান হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের। তাঁর কথায়, বিজেপি প্রার্থী ৫০ হাজার ভোটে জিতবেন। শুভেন্দু অধিকারীর সামনে সঞ্জিতা বা বঞ্চিতা—কেউই কোনও ফ্যাক্টর নন।
ফলে উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে কৌতূহল, অন্যদিকে দুই শিবিরের প্রকাশ্য সংঘাত—সব মিলিয়ে ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে একদা বাংলার সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক কেন্দ্র।




