ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে মঙ্গলবার আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, শুধু ভোটগ্রহণেই নয়, গণনার সময়ও অনিয়ম হয়েছিল। বিশেষ করে গণনার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাউন্টিং এজেন্টকে মারধর করে গণনাকেন্দ্র থেকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের শুনানিতে মমতার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর হয়ে সওয়াল করেন তাঁর পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেন বিচারপতি।
এর আগে অগস্টের শুনানিতেও শুভেন্দুর আইনজীবী জয়দীপ কর লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। সেই সময় বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত তিন সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেছিলেন। এ বার নতুন করে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হল।
এই মামলায় ভোট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের নির্দেশ আগেই দিয়েছে আদালত। ইভিএম, সিসিটিভি ফুটেজ-সহ ভোটপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথি যাতে নষ্ট, পরিবর্তন বা বিকৃত করা না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটে কারচুপির অভিযোগের প্রসঙ্গে শুনানিতে নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন মমতার আইনজীবী। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনে যে রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকেই পরবর্তী সময়ে ভবানীপুরে রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছিল। নন্দীগ্রামের নির্বাচন নিয়েও পৃথক নির্বাচনী মামলা হয়েছিল বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া তৎকালীন প্রশাসনিক আধিকারিক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের প্রসঙ্গও শুনানিতে ওঠে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাঁকে রাজ্যের মুখ্যসচিব করা হয়েছিল। একটি সময়ে তিনি একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব সামলেছিলেন বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটে হারিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাই কোর্টে নির্বাচনী মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ ও গণনায় অনিয়মের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার জবাবে এ বার শুভেন্দু অধিকারীর লিখিত বক্তব্যের দিকেই নজর আদালতের।




