• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 8 August, 2026

আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল ডিএমকে

ডিএমকের (DMK) আপত্তি মূলত আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণকে যুক্ত করা নিয়ে। তাদের বক্তব্য, ২০২৭-এর জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলক ভাবে কমে যেতে পারে।

আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল ডিএমকে

Image: ANI

তামিলনাড়ুতে (Tamilnadu) বিধানসভা নির্বাচনের পর ডিএমকের (DMK) সঙ্গে কংগ্রেসের (Congress) দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একই সময়ে টিভিকের (TVK)  মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের  (C. Joseph Vijay) সঙ্গে ডিএমকের (DMK) রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনায় শুক্রবার জল ঢেলে দেন ডিএমকে (DMK) নেতা তথা তামিলনাড়ুর বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন (Udhayanidhi Stalin)। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের (Delimitation Bill) বিরোধিতা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আসন পুনর্বিন্যাসের (Delimitation Bill) বিরুদ্ধে ডিএমকের (DMK) অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা গোড়া থেকেই সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলের বিরোধিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এভাবেই করে যাব।’

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত এই বিলে (Delimitation Bill) লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে লোকসভায় মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ডিএমকের (DMK) আপত্তি মূলত আসন পুনর্বিন্যাসের (Delimitation Bill) সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণকে যুক্ত করা নিয়ে। তাদের বক্তব্য, ২০২৭-এর জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলক ভাবে কমে যেতে পারে। কারণ, দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলির তুলনায় কম।  

আরও পড়ুন: ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেশের জন্য গুলি খেয়েছেন, আর আপনি ডিমের ভয় পাচ্ছেন?’ মহুয়ার আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে লোকসভায় উপস্থিত ও ভোটদানকারী সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় বর্তমানে তিনটি আসন খালি। গত ১৭ এপ্রিলও সরকার এই বিল (Delimitation Bill) পাশ করাতে পারেনি। সেদিন ৫২৮ জন সাংসদ ভোট দিয়েছিলেন। বিল (Delimitation Bill) পাশ করাতে ৩৫২টি ভোট প্রয়োজন হলেও সরকার পেয়েছিল ২৯৮টি ভোট।

এই পরিস্থিতিতে ডিএমকের  (DMK) ২২ জন সাংসদের সমর্থন কেন্দ্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিভিন্ন দল থেকে পাওয়া সমর্থন ধরে এনডিএর (NDA) পক্ষে ৩২৪ জন সাংসদ রয়েছেন বলে হিসাব। শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) নেতৃত্বাধীন এনসিপি (NCP)-র ৮ জন সাংসদের সমর্থনও মিলতে পারে বলে দিল্লিতে জল্পনা রয়েছে। তার পরেও ডিএমকের (DMK) সমর্থন পেলে সরকার দুই-তৃতীয়াংশের প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছুঁতে অনেকটাই সুবিধা পেত।

ডিএমকের  (DMK)সমর্থন পেতে কেন্দ্রের তরফে দক্ষিণের রাজ্যগুলির স্বার্থ রক্ষার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ করে বাড়ানোর বিষয়টি বিলে লিখিতভাবে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কেন্দ্রের যুক্তি, সব রাজ্যের আসন একই অনুপাতে বাড়লে কোনও রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের অনুপাত কমবে না। এ বিষয়ে উদয়নিধি (Udhayanidhi Stalin) জানিয়েছেন, খসড়া বিলে প্রতিটি রাজ্যের আসন ৫০ শতাংশ করে বাড়ানোর নিশ্চয়তা থাকলে তাঁরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। 

আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরই কেন প্রতিবাদের জায়গা? কেন রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র বারবার স্তব্ধ করে আন্দোলন? বড় প্রশ্ন দিল্লি হাইকোর্টের

এপ্রিল মাসে বিলটি পেশ হওয়ার পর বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, আসন পুনর্বিন্যাসের (Delimitation Bill) ফলে হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলির আসন বেশি বাড়তে পারে। তাতে ওই রাজ্যগুলিতে ভাল ফল করলেই কোনও দল লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সুবিধা পেতে পারে। সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছিলেন, বিরোধীরা বিল সমর্থন করলে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে প্রতিটি রাজ্যের আসন ৫০ শতাংশ করে বাড়ানোর বিষয়টি যুক্ত করতে প্রস্তুত।

এ দিকে, বিলটি  (Delimitation Bill) নিয়ে তামিলনাড়ুর (Tamilnadu) সব দলের সাংসদকে নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়   (C. Joseph Vijay) বলেও খবর ছড়ায়। যদিও টিভিকের (TVK) লোকসভা বা রাজ্যসভায় এখনও কোনও সাংসদ নেই। তার পরেই ডিএমকের  (DMK) তরফে এই স্পষ্ট অবস্থান সামনে এল। বিলটি (Delimitation Bill) পাশ করাতে সরকারকে এখন অন্য দলগুলির সমর্থনের উপরই বেশি ভরসা করতে হবে। 

দেখুন: শিল্পবান্ধব বাংলাই আমাদের লক্ষ্য: মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র