বিহারের পর আসামেও নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। বৈঠক শেষে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বাস দিয়েছে, যে এনডিএ শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
এর আগে সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে ‘ককরোচ’-এর মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় সরকারের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা মানা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে বহু ছাত্রছাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি তাঁদের হয়রানির মুখেও পড়তে হচ্ছে।
#Important: 1 AM update.
Hours after our press conference, Government’s representatives met us. The meeting lasted for 2-3 hours. They shared copies of the Bihar and Assam notifications guaranteeing FIR withdrawals, no action in future, and release of all detainees and… pic.twitter.com/G7WcHHcfAs
— Saurav Das (@SauravDassss) July 27, 2026
এই সাংবাদিক বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিহার সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দায়ের হওয়া মামলাগুলি দ্রুত তুলে নেওয়া হবে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে। পরে একই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে আসাম সরকারও।
সৌরভ দাস জানান, সাংবাদিক বৈঠকের পরই সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়। বৈঠকে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তির কপিও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, এনডিএ শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও দ্রুত একই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে সৌরভ বলেন, ‘সরকার আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, আগামীকালের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সমস্ত রাজ্য থেকে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।‘
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কলকাতায় ‘ককরোচ’-এর মিছিল ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের দিকে জুতো ও জলের বোতল ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।




