• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

সত্য নিকেতন কাণ্ডের জের, দিল্লিতে এবার কড়া হচ্ছে বাড়ি নিরাপত্তা বিধি

দিল্লির মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০-৫০ বছরের পুরোনো ওই বাড়ির বেসমেন্টে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই কাজই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ধসে পড়া বাড়ির পাশের একটি বাড়ি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সত্য নিকেতন কাণ্ডের জের, দিল্লিতে এবার কড়া হচ্ছে বাড়ি নিরাপত্তা বিধি

Photo: ANI

দিল্লির সত্য নিকেতনে পাঁচতলা মেসবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭। এবার রাজধানীতে জনসাধারণের ব্যবহৃত বাড়ি নিয়ে নিরাপত্তা বিধি আরও কড়া করার পথে হাঁটছে দিল্লি সরকার। পিজি, স্কুল, নার্সিংহোম-সহ জনসাধারণের ব্যবহৃত সমস্ত বাড়ি নির্দিষ্ট সময় অন্তর কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা বা স্ট্রাকচারাল অডিট বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাড়িকে নিরাপত্তা শংসাপত্রও নীচে হবে। নির্ধারিত নিরাপত্তা মান পূরণ না করলে সেখানে কোনও ধরনের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

সোমবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি জানান, দিল্লি সরকার এবং মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি) যৌথভাবে এই নীতি তৈরির কাজ করছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পিজি, নার্সিংহোম, স্কুল বা অন্য যে কোনও জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য বাড়ি নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্ট্রাকচারাল অডিট করাতে হবে। নিরাপত্তা শংসাপত্র নিতে হবে। তা না হলে সেখানে কোনও জনসাধারণের কার্যকলাপ চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।

বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন পিজি বা পেইং গেস্ট আবাসনের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কোনও পড়ুয়াকে নিরাপদযোগ্য নয় এমন পিজিতে থাকতে দেওয়া হবে না। সত্য নিকেতন ও তার আশেপাশের এলাকায় পিজি এবং অন্যান্য ভবন পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে নিয়মবহির্ভূত কোনও বিষয় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বাড়ি সিল করে দেওয়া হতে পারে।

বিপর্যয়ের জেরে যে সমস্ত পড়ুয়াকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিকল্প থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেখা গুপ্তা। কলেজের হস্টেলে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব রকম সহায়তা দিচ্ছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের পরিবারের সঙ্গেও প্রশাসনের আধিকারিকরা সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন।

এদিকে এই ঘটনায় বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, নজরদারি বা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে এমসিডির কোনও আধিকারিকের ভূমিকা সামনে এলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন গুপ্তা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই ঘটনায় কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। বাড়ি ধসের সম্ভাব্য কারণ নিয়েও একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। মুখ মধ্যেই আপাতত ৫ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সাউথ জোনের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমার, সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার রণবীর সিং, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (বিল্ডিং) ললিত কুমার গোয়েল, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (বিল্ডিং) সুনীল চৌহান এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (বিল্ডিং) আশীষ কুমার।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাড়িটি বহু পুরোনো ছিল। বেসমেন্টে জল জমে যাওয়ার ফলে স্তম্ভগুলি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে, দিল্লির মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০-৫০ বছরের পুরোনো ওই বাড়ির বেসমেন্টে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই কাজই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ধসে পড়া বাড়ির পাশের একটি বাড়ি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পরেই সেটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। এমসিডি সেটিকে বিপজ্জনক ও বসবাসের অনুপযুক্ত ঘোষণা করে ৩ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: পুলিশের তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার চুরি যাওয়া সোনা ও নগদ, গ্রেপ্তার আয়াকর্মী

তবে ধ্বংসস্তূপের নীচের পরিস্থিতিটা ঠিক কী রকম তা জানা যায়নি। তাই পাশের বাড়িটি এখনই ভাঙা হচ্ছে না। সোমবারও এনডিআরএফ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। মন্ত্রী সিরসার দাবি, প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ ইতিমধ্যেই হাত দিয়ে সরানো হয়েছে। তবে পাশেই বাড়ি থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালাতে হচ্ছে।