রাজ্যে ঘটে গিয়েছে পালাবদল। আর আজ জুন মাসের প্রথম দিনে শপথ নিলেন বিজেপির সকল জয়ী বিধায়কেরা। তৈরি হল বাংলায় বিজেপির প্রথম মন্ত্রীসভা। যদিও আগেই বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন রত্না দেবনাথ। যার অপর পরিচয় তিনি অভয়ার মা। ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ভয়াবহভাবে খুন হয়েছিলেন অভয়া। সেইসঙ্গে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা বাংলা এবং সমগ্রদেশের চিকিৎসকেরা। প্রশ্ন উঠেছিল কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তা নিয়েও। সেই সময় রাজ্যের শাসনভার হাতে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। কিন্তু সেই ধর্ষকদের শাস্তি দেওয়ার বদলে ঘটনার প্রমাণ লোপাট করে দোষীদের বাঁচানোতে গুরুত্ব দিয়েছিল তারা। কলকাতার সকল নারী সেই সময় পথে নেমেছিল রাত দখল করতে, ঘটনার ন্যায়বিচার চাইতে। কিন্তু তারই মাঝে আরজি করে ঢুকে ঘটনাস্থলে রীতিমত তাণ্ডব চালিয়েছিল তৎকালীন সরকারের পেটোয়া গুণ্ডারা। ধ্বংস করেছিল ঘটনাস্থল। প্রশ্ন উঠেছিল রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও। আর সেই সুযোগে ফুটেজের ক্ষীরস খেয়ে নিজেদের গুরুত্ব বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সিপিএমও। প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল জুনিয়র চিকিৎসক সংগঠন। কিন্তু তাদের লড়াই নিয়েও সন্দীহান ছিলেন অনেকেই। এমনকি ঘটনায় একমাত্র দোষী হিসেবে গ্রেফতার হওয়া সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের ফাঁসির দাবিতে জোরালো আওয়াজ তুলেছিল তৃণমূল তখন তার বিরোধী স্বর পাওয়া গিয়েছিল রত্না দেবনাথের গলাতেও। কারণ সন্দীহান ছিলেন তিনিও। সেই সঙ্গে বাংলার রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া সিপিএমের এই ঘটনাকে ব্যবহার করে পুণরায় প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার যে মরিয়া প্রচেষ্টা ছিল তা বুঝতে পেরেছিলেন রত্না দেবনাথ। আর এও বুঝেছিলেন ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনতে হলে দরকার ক্ষমতা। তবে সেই সময় তাঁর পাশে ছায়ার মত ছিল বিজেপি। বারবার প্রতিপদে সবসময় তাকে আগলে রেখেছিল বিজেপি। আর তাই বিজেপির হয়ে নির্বাচনের ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। আর তারপরেও সমাজ দেখেছিল আপাত শিক্ষিত সিপিএমের এক ঘৃণ্য, নোংরা কদর্য চেহারা। কুৎসিত অশ্রাব্য ভাষায় তার মাতৃত্ব নিয়ে পর্যন্ত প্রশ্ন তুলেছিল তারা। ওই ঘটনার পরে গ্রেফতার হয়েছিলেন সিপিএমের এক তরুণ নেতা কলতান দাশগুপ্ত। কিন্তু সিপিএমের তরফে ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছিল যে অভয়ার বিচার চাইতে গিয়েই গ্রেফতার হন তিনি। নরপিশাচ সিপিএম সেদিনই নিজেদের নগ্ন রূপ প্রকাশ করেছিল যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তথাকথিত বাম সমর্থকেরা দাবি করেছিলেন নিজের মেয়েকে বিক্রি করে ক্ষমতা চাইছেন তিনি। একবারও এটা বোঝার চেষ্টাও করেনি যে মা নিজের মেয়েকে ওইভাবে দেখেছে, যে মা দরজায় দরজায় ঘুরেছে ন্যায়বিচারের আশায় সেই সময় তার মনের অবস্থা কি ছিল। সুপ্রিম কোর্টে কেসের গুরুত্ব ক্রমে কমে যাওয়া, সিবিআইয়ের থেকে অসহযোগিতা পেয়েও যে মা লড়াই চালিয়ে যান তিনি কি ভাবে নিজের মেয়ের মৃত্যুকে ব্যবহার করবেন।তথাকথিত শিক্ষিত সিপিএম সমর্থকেরা নির্বাচনের প্রচারের সময় প্রকাশ করেছিলেন একটি ঘৃণ্য গান। যার সারমর্ম ছিল এই যে রত্না দেবনাথ তার নিজের মেয়ের ন্যায়বিচার চায়নি। তা চেয়েছে একমাত্র সিপিএম। সেখানেও পরোক্ষে মদত থেকেছিল তৃণমূল কংগ্রেসেরও। তাই নির্বাচনী প্রচারে যখন তিনি বিভিন্ন জায়গায় যেতেন সেখানে তাকে আক্রমণ করতে পিছপা হয়নি তৃণমূল সমর্থকেরা। এমনকি নির্বাচনী প্রচারের শেষের দিকে রত্না দেবনাথের দিকে নোংরা আক্রমণ শানিয়েছিল সিপিএমও। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন যে রত্না দেবনাথ সিপিএম সমর্থক এক বাবা ও তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের উপরে গুন্ডা লেলিয়ে দিচ্ছেন। যা আদতে সঠিক ছিল না। পরবর্তীতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসায় পিছু হটেছিল সিপিএম। ওই জায়গায় সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছিল কলতান দাশগুপ্তকে। তাঁর প্রচারে আরও এক ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল যে কলতান জিতলে তবেই জিতবে অভয়া। কিন্তু সেই সমস্ত কিছুকে পরাজিত করে নির্বাচনে জয় পান রত্না দেবনাথ। সুতরাং বলা চলে যে ন্যায়বিচারের লড়াইতে অনেকটা এগোলেন তিনি।
Advertisement
Advertisement



