আন্দোলনকারীরা আর কোথাও গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের যন্তরমন্তরেই আসতে হবে। নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি-সহ শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত এভাবেই আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা। নয়াদিল্লির রাজপথ উত্তাল হয়ে রয়েছে। এবার এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ তুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই আন্দোলনকে তীব্র আক্রমণ করে আন্দোলনকারীদের বিদেশি শক্তির পেশাদার পুতুল বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তবে এসব করে কোনও লাভ হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে এই আন্দোলনের আঁচ সংসদের ভিতরেও পড়েছে। বৃহস্পতিবার স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর থেকে সংসদ। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা। পাল্টা এনডিএ সাংসদদের স্লোগান দিতেও দেখা যায়। এই তুমুল হট্টগোলের জেরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয় লোকসভা। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সহজ টার্গেট হলো পার্লামেন্ট অধিবেশন। তখন ওখানে প্রেস মিডিয়া বেশি থাকে। দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা হচ্ছে।’
অন্যদিকে যন্তরমন্তর চত্বর-সহ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র বলে মনে হচ্ছে। কারণ দিল্লি পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি র্যাফ, শ’য়ে শ’য়ে গার্ডরেলের ব্যারিকেডে যেন দুর্গ গড়ে তোলা হয়েছে রাজধানীর রাজপথকে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে যে, অবস্থান আন্দোলন চলাকালীন আচমকাই কয়েকজন পুলিশকর্মীর দিকে পাথর-বোতল ছোঁড়া হয়। তার জেরে পুলিশ কর্মীরা আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘পাকিস্তান বা বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা চলছে। নেপাল বা শ্রীলঙ্কা বানানোর চেষ্টা চলছে। এসব আগেও সফল হয়নি। এবারও সফল হবে না। কৃষক আন্দোলনের মতো পরিণতি হবে। একই লোক এরা যাঁরা কৃষক আন্দোলন করে, এরাই ছাত্র আন্দোলন করে, এরাই আবার মহিলা আন্দোলন করায়।’
তাছাড়া এই আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজধানীর রাজপথে যা ঘটেছে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই পোস্ট করেছেন, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তবে এদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, ‘এরা হলো পেশাদার বিদেশি লোকদের কাঠের পুতুল। তাই উৎপাত করবে। ভুলে যাবেন না সরকার মোদী এবং অমিত শাহের। যথাসময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বেশি কড়া সিদ্ধান্ত নিলে সেটাকে আবার হাতিয়ার করা হবে। এদের পাশে মানুষ নেই, জনতা নেই, ভোটে হেরে যায়। তারপর ওখানে লাফালাফি করে। বিদেশের দালাল ওরা। প্রথমে যাঁরা আন্দোলন করতে এসেছিল, এখন তাঁরাও বুঝতে পারছে তাঁদের বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’




