অনন্তনাগে সন্ত্রাসবাদী হামলায় এক পুলিশকর্মী নিহত হওয়ার পর গোটা কাশ্মীরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার থেকেই গোটা কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। উপত্যকাজুড়ে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন, নাকা তল্লাশি জোরদার এবং একাধিক এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেই সঙ্গে দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগে লস্কর-ই-তইবার দুই জঙ্গির বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে অনন্তনাগের লালচক এলাকায় খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের হেড কনস্টেবল আশিক হুসেনকে। এই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সতর্কতার মোড়কে রাখা হয়েছে। শ্রীনগর সিআরপিএফ সেক্টরের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চেকপোস্ট আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীকে সহযোগিতা করার আবেদনও করা হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের লোক ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। ওই বৈঠকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি চলতি অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
পুলিশকর্মী খুনের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় লস্কর-ই-তইবার দুই জঙ্গি আদিল ঠোকার এবং হারুন গনাইয়ের বাড়ি বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। আদিলের বাড়ি বিজবেহারার গুরি এলাকায়। অন্যদিকে, হারুনের বাড়ি অনন্তনাগের হাসানপোরা এলাকায়। প্রশাসনের দাবি, জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং তাদের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে চলা অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অনন্তনাগে পুলিশকর্মী খুনের পর কাশ্মীরজুড়ে জোরদার তল্লাশি, আটক ২ হাজারেরও বেশি ওজিডব্লিউ
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রের খবর, হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিদের খোঁজে উপত্যকার একাধিক এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা রুখতে কাশ্মীরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।




