অমৃতসর বিমানবন্দরের আকাশে সন্দেহজনক ড্রোনের গতিবিধি ঘিরে রবিবার রাতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই সময় অবতরণের অপেক্ষায় থাকা ৭টি বিমানকে দিল্লি ও চণ্ডীগড়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে নতুন করে কোনও ড্রোন দেখা না যাওয়ায় রাত ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ ফের স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।
বিমানবন্দর অধিকর্তা অনিরুদ্ধ কুমার শর্মা জানিয়েছেন, রাত পৌনে ১০টা নাগাদ ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি-কে বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকায় ড্রোন দেখতে পাওয়ার কথা জানানো হয়। তখন অমৃতসরে নামার জন্য আকাশে অপেক্ষা করছিল ৭টি বিমান। ড্রোনের সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষ বা অন্য কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর মেনে তৎক্ষণাৎ জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। রাত ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় উড়ান পরিষেবা।
অবতরণের অপেক্ষায় থাকা ৭টি বিমানকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। ২টি বিমান যায় চণ্ডীগড়ে, ৫টি দিল্লিতে। দিল্লিতে ঘুরিয়ে দেওয়া বিমানগুলির মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের উড়ান ছিল। একটি আন্তর্জাতিক উড়ানও এই ঘটনায় প্রভাবিত হয়।
রাত ১১টা নাগাদ পরিস্থিতি ফের পর্যালোচনা করে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি। নতুন করে কোনও ড্রোনের দেখা না মেলায় ১১টা ১৫ মিনিট থেকে বিমান চলাচল শুরু হয়। ঘুরিয়ে দেওয়া সাতটি বিমানের মধ্যে পাঁচটি পরে অমৃতসরে ফিরে আসে। একটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান বাতিল করা হয়।
ড্রোনগুলি কোথা থেকে এসেছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ সূত্রে দাবি, বিমানবন্দরের কাছের একটি গ্রামে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন ভিডিও করার জন্য ড্রোন ওড়ানো হয়েছিল। অথচ বিমানবন্দরের আট কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ। ওই ড্রোন ওড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার জেরে অমৃতসর বিমানবন্দরের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক রুটগুলির পরিষেবাতেও সাময়িক প্রভাব পড়ে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন ওই ড্রোনের গতিবিধি এবং ওড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করছে।




