আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে প্রযুক্তির আধিক্যে যখন প্রতিনিয়ত নতুন সমরাস্ত্র আসরে নামছে, তখন তার বিপরীতে এক অভিনব চিত্র ধরা পড়ল ইউক্রেনে। রাশিয়ার ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইউক্রেন ভরসা রাখছে সোভিয়েত জমানার পুরনো যুদ্ধবিমান ইয়াক-৫২-র উপর। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার অত্যাধুনিক ড্রোন, যেমন অর্ল্যান-১০ বা জালা-র মোকাবিলায় ইউক্রেন ব্যবহার করছে এই দুই আসনের প্রথাগত প্রশিক্ষণ বিমান। কোনও রকম রাডার বা রাত্রিকালীন উড়ানের ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও, দক্ষ পাইলট ও গানারের সমন্বয়ে আকাশসীমায় শত্রু ড্রোন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইয়াক-৫২।
ইউক্রেনের ১১ আর্মি অ্যাভিয়েশন ব্রিগেডের অধীনে এই অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে। এক পাইলট বলেন, ‘এই বিমান দিয়ে ড্রোন ধ্বংস করার কাজটা একদিকে চ্যালেঞ্জিং, অন্যদিকে দারুণ কৌশলনির্ভর। পুরনো অস্ত্র দিয়েই আমরা আধুনিক প্রযুক্তিকে ঠেকাচ্ছি, এটা আমাদের সাহস ও দক্ষতার প্রমাণ।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন শনাক্ত হওয়া মাত্রই আকাশে ওড়ে ইয়াক-৫২। বিমান থেকে গানার পরপর গুলি চালান ড্রোন লক্ষ্য করে। মূলত অর্ল্যান এবং জালা ড্রোনের দিকেই লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। রাশিয়ার ড্রোনগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নজরদারি বা লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়, ফলে এগুলিকে আকাশেই ধ্বংস করা ইউক্রেনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই কৌশল নজরে রেখেছে রাশিয়াও। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাশিয়াও ইয়াক-৫২ বিমানের আধুনিকীকরণ শুরু করেছে। আধুনিক রূপে বিমানটির নাম দেওয়া হয়েছে ইয়াক-৫২বি২। এই বিমানে ডানার নীচে সংযুক্ত করা হয়েছে একটি শটগান। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের সংযোজনের ফলে ভবিষ্যতে ড্রোন প্রতিরোধে আরও কার্যকর হতে পারে এই বিমান। যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে প্রযুক্তির আধুনিকতা মূল ভরসা হয়ে উঠেছে, সেখানে ইউক্রেনের এই পুরনো অস্ত্রে ভরসা রাখা কৌশলের দিক থেকে এক ব্যতিক্রমী নজির বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।




