ন্যাটো সন্মেলনের আগে কিয়েভে বড়সড় হামলা চালাল রাশিয়া। সোমবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ফের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার জেরে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বহু বাড়ি। তবে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও এই হামলায় কতজন প্রাম হারিয়েছেন তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কিয়েভ ও তার আশেপাশের একাধিক এলাকায় রাশিয়া বৃষ্টি করেছে। হামলা রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে। হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আরও বড় ধরনের আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার ভোরে কার্যত সেই কথাই যেন সত্যি হল।
সোমবার ভোরে বিমান হামলার সাইরেন বাজতেই কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। রাত দেড়টা নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আধ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় দ্বিতীয় দফার হামলা। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রাশিয়ার মিসাইল হামলায় বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পোডিলস্কি এলাকায় আবাসিক ভবন ভেঙে পড়ার খবর তিনি জানিয়েছেন। তবে রাশিয়ার এই বিধ্বংসী হামলায় কতজন নিহত হয়েছেন, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য মেলেনি।
রবিবার সমাজ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া নতুন করে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি। জেলেনস্কি অভিযোগ করছিলেন, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের পর এবং ন্যাটো সন্মেলনের আগে হামলা চালিয়ে মস্কো আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। সেই হামলায় অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু পর রাজধানী কিয়েভে সেঠাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হতে চলেছে ন্যাটো সন্মেলন। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়া তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন আন্তজার্তিক গণমাধ্যম সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিট ফোনে কথোপকথন হয়েছিল। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই আলোচনায় ট্রাম্প ফের ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই ইউক্রেনে বড়সড় ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া। এর প্রভাব ন্যাটো সন্মেলনে ঠিক কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।




