শনিবার থেকে শুরু হয়েছে জনগণনা। ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে পোর্টালও। এটি সংবিধান স্বীকৃত একটি প্রক্রিয়া। নিজে সেলফ এনুমারেশন করে ফেলে সাংবাদিকদের সে কথাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই সেলফ ড্রাইভ পোর্টাল। সেখানে ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে জনগণকে। এই প্রথম ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। তার ফলে অনলাইনে নিজেরাই জনগণনার ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এটা ভারতের ১৬তম জনগণনা কর্মসূচি। এই কাজ শুরু করেই মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসবার্তা, এই ডিজিটাল জনগণনায় ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহার হওয়ার সুযোগ নেই।
শনিবার নবান্নে বসে সেলফ এনুমারেশন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই জনগণনায় কোনও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। আর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় এবং আইনগতভাবে সুরক্ষিত। শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। কারও ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে আসার বা সেটিকে অপব্যবহার করার কোনও সুযোগ এখানে নেই। এবারের জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় হচ্ছে জনগণনা। আবার স্বগণনাও করতে পারবেন বঙ্গবাসী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজে শুরু করলাম। জনগণনা কর্মীদের সহযোগিতা করার আবেদন করছি।’
জনগণনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। একাধিক দেশের সীমান্ত থাকার কারণে এখনকার পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিভুক্ত করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করতে হবে নির্দিষ্ট পোর্টালে। এই বিষয়গুলি উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘জনগণনার কাজে ৩ হাজার ৪০০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে। মোট ১৪ হাজার ৩৯৯ জন নিযুক্ত রয়েছেন। সাধারণ মানুষজন নিজেরাই ফর্মপূরণ করুন। কারও কোনও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হবে না।’
তাছাড়া আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি তালিকাভুক্তি এবং গৃহগণনা হবে। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই এবং চার চাকার গাড়ির মতো তথ্যও নেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। তাতে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি এবং ধর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন অফিসাররা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘জনগণের জনকল্যাণ ও বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে আধুনিক আদমসুমারি সফল হোক, সেটাই চাইছি। https://se.census.gov.in লিঙ্কে ঢুকে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন।’




