হাওড়ার পিলখানায় দুষ্কৃতি রাজত্ব। পালাবদলের পরেও খুলে আম ঘুরে বেড়াচ্ছে দুষ্কৃতীরা? অন্তত এমনটাই তো মনে করছেন গোলাবাড়ি থানা এলাকার বাসিন্দারা। কেন? পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার দু সপ্তাহের মধ্যেই ফের পিলখানায় দুষ্কৃতি হদিস। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করল গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম শেখ ইরফান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরফান ১৭ নম্বর পিলখানা ফার্স্ট বাই লেনের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। কী কারণে ওই যুবক নিজের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছিল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে তদন্ত।
পাশাপাশি, পিলখানা এলাকায় আরও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে হাওড়া সিটি পুলিশ।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ষড়যন্ত্র, পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ, হানি ট্র্যাপ-সহ একাধিক অভিযোগে হামিম মণ্ডল ও তার প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জানা গিয়েছিল, গত চার বছর ধরে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারের সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ ছিল। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছিল, চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের দিন বাংলায় হামলার ছক কষা হয়েছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর তরফে। সেই পরিকল্পনায় মুখ্য ভূমিকা থাকার অভিযোগ উঠেছিল হামিম ও অর্পিতার বিরুদ্ধে।
এর আগে রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছিলেন, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডল হাওড়ায় একা নয়। অলিগলিতে এরকম আরও অনেকেই রয়েছে। পুলিশ তাদের খুঁজে বার করুক। তিনি আরও দাবি করেছিলেন, এই ধরনের হামিম মণ্ডলদের চিহ্নিত করে পুলিশ তাদের ডেরায় হানা দিলেই মজুত করে রাখা প্রচুর বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হতে পারে।
মন্ত্রীর পরামর্শের পরই তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেই অভিযানে পিলখানা এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ শেখ ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিলখানা এলাকায় আরও বেআইনি অস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।




