জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাতভর জঙ্গিদমন অভিযানে নিহত হয়েছে এক জঙ্গি। নিহত ব্যক্তি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে আমেরিকার তৈরি এম ৪ কার্বাইন রাইফেল-সহ বেশ কিছু অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুতের সন্ধান মিলেছে। বাকি জঙ্গিদের খোঁজে এখনও তল্লাশি চলছে। অভিযানের পর জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তাদের এক্স হ্যান্ডলে লেখে, ‘তুমি পালাতে পারো, তবে লুকিয়ে থাকতে পারবে না।’ এক জঙ্গি নিহত হলেও আরও কয়েকজন ওই এলাকায় লুকিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে বাহিনী। তাঁদের খোঁজে জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে ডোডার উঁচু এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে অস্ত্র-সহ ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ডোডার স্পেশ্যাল অপারেশনস গ্রুপ, রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথবাহিনী অভিযান শুরু করে। উধমপুর ও কাঠুয়া জেলার সংযোগস্থলের সেওজ ধার বনাঞ্চল-সহ পাহাড়ি এলাকায় রাতভর গুলির লড়াই চলে। শনিবার সকালে তল্লাশির সময় এক জঙ্গির দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের কাছ থেকে অস্ত্র, পাকিস্তানি পরিচয়পত্র এবং দীর্ঘদিন হামলা চালানোর মতো রসদ পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া এম ৪ কার্বাইন রাইফেলটির সঙ্গে রাতের অন্ধকারে নজরদারি ও হামলার কাজে ব্যবহৃত নাইট-ভিশন টেলিস্কোপ যুক্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের পার্বত্য জেলাগুলিতে জঙ্গি নেটওয়ার্ক নির্মূল করতে চার হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য, প্যারা কমান্ডো এবং পাহাড়ি যুদ্ধে প্রশিক্ষিত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। রাজৌরি, পুঞ্চ, ডোডা ও কাঠুয়া জেলায় হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের সাহায্যে তল্লাশি চলছে। জঙ্গিদের স্থানীয় সহযোগী বা ‘মিডলম্যান’-দের খুঁজে বার করতে একাধিক এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিও।




