কেটে গেছে ১৯ টা বছর। প্রায় দুই দশক পর আবার পর্দায় ফিরল ‘আওয়ারাপন’-এর জনপ্রিয় চরিত্র শিবম পণ্ডিত। ‘আওয়ারাপন ২’-এ পুরনো সেই যন্ত্রণা, প্রেম আর অপরাধবোধের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন মিশন। এ বার শিবমের লড়াই মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের রাস্তায় একটি ছোট মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে সে জড়িয়ে পড়ে ভয়ঙ্কর অপরাধজগতের সঙ্গে।
প্রথম ছবি না দেখলেও ‘আওয়ারাপন ২’ বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হবে না। গল্পের মাঝে ফ্ল্যাশব্যাকে শিবমের অতীত দেখানো হয়েছে। কী ভাবে সে নিজের গ্যাংয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, কী ভাবে প্রিয় মানুষকে হারিয়েছিল— সেই পুরনো ক্ষতই এখনও তাকে তাড়া করে।
ইমরান হাশমির অভিনয় ছবির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। শিবম এখানে এমন এক মানুষ, যে বাইরে থেকে শক্ত, রাগী এবং কঠিন, কিন্তু ভিতরে জমে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত যন্ত্রণা। ইমরান সেই ক্লান্তি, রাগ আর অপরাধবোধ খুব স্বাভাবিক ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। বয়সের ছাপ থাকলেও অ্যাকশন দৃশ্যেও তাঁকে বেশ মানিয়েছে।
দিশা পাটানি অভিনয় করেছেন জারা চরিত্রে। অপরাধজগতের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চাওয়া এক তরুণী সে। শিবমের সঙ্গে জারার সম্পর্ক ছবিতে আবেগের জায়গা তৈরি করে। দু’জনের কিছু নরম মুহূর্ত এবং সেলো বাজানোর দৃশ্য গল্পে অন্য রকম আবহ আনে। তবে তাঁদের সম্পর্ক আরও একটু গভীর ভাবে দেখানো হলে ভাল লাগত।
খলনায়ক জোরাওয়ারের চরিত্রে পূরন গাব্বি বেশ নজর কেড়েছেন। তাঁর ভয়ঙ্কর চেহারা ও নির্মম আচরণ চরিত্রটিকে আলাদা করে মনে রাখার মতো করেছে। সুভিন্দর ভিকি, বিজয়ন্ত কোহলি এবং শাবানা আজমিও নিজেদের জায়গায় ভাল। তবে শাবানা আজমির মতো অভিনেত্রীর চরিত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত।
প্রথমার্ধে ছবির গতি বেশ ভাল। ব্যাংকের লোকেশন, অ্যাকশন আর শিবমের মিশন মিলিয়ে গল্প জমে ওঠে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এসে ছবির গতি কিছুটা কমে যায়। ফলে শুরুতে তৈরি হওয়া উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ধরে রাখা যায়নি।
সব মিলিয়ে, ‘আওয়ারাপন ২’ একেবারে খারাপ নয়। পুরনো ‘আওয়ারাপন’-এর দর্শকদের জন্য এতে নস্টালজিয়া আছে, আবার নতুন দর্শকদের জন্য রয়েছে নতুন চমক। ইমরান হাশমির অভিনয় ছবিটিকে টেনে নিয়ে যায়, দিশা পাটানিও নিজের চরিত্রে মানানসই। তবে চিত্রনাট্য আরও আঁটসাঁট হলে এই কামব্যাক আরও জোরালো হতে পারত।




