• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

ফের বিশাল কয়েথের হাতই টাই ব্রেকারে জেতাল মোহনবাগানকে, ডুরান্ডের ফাইনালে ফের ডার্বি

ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ফের হতে চলেছে কলকাতা ডার্বি। বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে যে ভাবে ইস্টবেঙ্গলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তাদের গোলকিপার প্রভসুখন গিল,

ফের বিশাল কয়েথের হাতই টাই ব্রেকারে জেতাল মোহনবাগানকে, ডুরান্ডের ফাইনালে ফের ডার্বি

PHOTO- SNS

ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ফের হতে চলেছে কলকাতা ডার্বি। বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে যে ভাবে ইস্টবেঙ্গলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তাদের গোলকিপার প্রভসুখন গিল, সে ভাবেই বৃহস্পতিবার টাই ব্রেকারে গতবারের চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের দুটি শট আটকে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ফাইনালে তুললেন সবুজ-মেরুন গোলকিপার বিশাল কয়েথ।

এ দিন মেঘালয়ের শৈলশহর শিলংয়ে নির্ধারিত সময়ে কোনো গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাই ব্রেকারে। ডুরান্ড কাপের নিয়ম অনুযায়ী নক আউট পর্বে নির্ধারিত সময়ে অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি টাই ব্রেকারে নিষ্পত্তি হয়। সেই নিয়মেই এ দিন টাইব্রেকারে ম্যাচের ফয়সালা হয় এবং পেনাল্টি শুট আউট পর্ব ৪-৩-এ জিতে ফাইনালে উঠে পড়ল সর্বাধিকবার ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান। রবিবার তাদের খেতাবী লড়াই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে স্নায়ুর চাপ সামলে জয়ের মুখ দেখল মোহনবাগান। সেই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করে ফেলল সবুজ-মেরুন বাহিনী।

কোয়ার্টার ফাইনালের মতো সেমিফাইনালেও নায়ক হয়ে উঠলেন বিশাল কয়েথ। পরপর দু’টি পেনাল্টি বাঁচিয়ে মোহনবাগানকে শিরোপার লড়াইয়ে পৌঁছে দিলেন তিনি। রেকর্ড ১৮তম ডুরান্ড কাপ জয়ের লক্ষ্যে এ বার ফাইনালে নামবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

অন্য দিকে, নর্থইস্ট ইউনাইটেডের টানা তৃতীয় বার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেল। টাই ব্রেকারে রবিন যাদব ও পার্থিব গগৈ-এর শট বাঁচিয়ে বাজিমাত করেন বিশাল। তার আগে নিনকোভিচ, আজারেই ও এতিয়ান নর্থইস্টের হয়ে গোল করেন।

অন্যদিকে মোহনবাগানের হয়ে প্রথমে গোল করতে আসেন রাহুল ভেকে। তার পরে শুভাশিস বোস, লিস্টন কোলাসো ও জেমি ম্যাকলারেন। তাঁরা প্রত্যেকেই গোল করেন। কিন্তু নর্থইস্টের শেষ দুটি শট বিশাল বাঁচিয়ে দেওয়ায় আর পঞ্চম শটটি নিতেই হয়নি কলকাতার দলকে।

এ দিন নির্ধারিত সময়ে দুই দলই একাধিক সহ সুযোগ পায়। ঘরের মাঠে নর্থইস্ট-ই ফেভারিট থাকলেও এবং তাদের তারকা স্ট্রাইকার মরক্কোর আলাদিন আজারেই ফর্মে থাকলেও মোহনবাগানকে বেশি বেগ দিতে পারেনি তারা। দুই দলের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। কোনও পক্ষই বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

মোহনবাগান যেখানে পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সেখানে নর্থইস্ট চারটির বেশি গোলের সুযোগ পায়নি। সারা ম্যাচে মোহনবাগান যেখানে পাঁচটি শট গোলে রাখতে পারে, সেখানে নর্থইস্ট ৯০ মিনিটে একটিও শট বার ও পোস্টের মধ্যে রাখতে পারেনি। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, দুই দলের রক্ষণই প্রতিপক্ষকে রুখতে কতটা তৎপর ছিল।

এ বার কলকাতার দুই ফুটবল মহাশক্তির মহারণ দেখার অপেক্ষা। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান দ্বৈরথ দিয়েই যে প্রতিযোগিতার শুরু হয়েছিল, সেই একই ম্যাচ দিয়েই শেষ হতে চলেছে ডুরান্ড কাপের এবারের অভিযান। ১৩৫ তম ডুরান্ড কাপ যে কলকাতায় ফিরে আসছে, এই নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।