প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী তথা তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আরও এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃত সম্রাট বড়ুয়া বিধাননগর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজির অভিযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাগুইআটি থানার পুলিশ শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, সম্রাটের সঙ্গে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সমাজমাধ্যমেও তাঁদের একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় মহলে দেবরাজদের ঘনিষ্ঠ বলেই সম্রাটের যথেষ্ট প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ।
Advertisement
এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, সম্প্রতি পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় হয়েছে ইডি। ইতিমধ্যেই ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসু। তার মধ্যেই সম্রাটের গ্রেপ্তারি নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।
Advertisement
অন্যদিকে, শনিবার সকালে দক্ষিণ দমদম পুরসভার কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনিও দেবরাজ ও অদিতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেবরাজ এবং অদিতি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন অদিতিরা। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর জন্যই এই কাজ করা হয় বলে রাজ্যের তরফে জানানো হয়।
আদালত আপাতত ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তারিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য হাই কোর্টে দেবরাজদের হয়ে সওয়াল করায় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এর মধ্যেই তাঁদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
Advertisement



