• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 31 August, 2026

মোবাইলে এবার বেজে উঠবে অ্যালার্ম, আগাম ভূমিধসের সতর্কতায় উদ্যোগী নবান্ন

গোটা বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হবে। একটি এলাকার বৃষ্টিপাতের পরিমাপ, মাটির আর্দ্রতা-সহ নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়া যাচাই

মোবাইলে এবার বেজে উঠবে অ্যালার্ম, আগাম ভূমিধসের সতর্কতায় উদ্যোগী নবান্ন

Nabanna Photo-SNS

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে সাতশোর বেশি মানুষজন। তছনছ হয়ে গিয়েছে গোটা নেপাল। স্বজন হারানো কান্না, আর্তনাদ যেন আকাশ ছুঁয়েছে। নেপাল ভারতের প্রতিবেশী দেশ। এমনকী নেপালের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রয়েছে উত্তরবঙ্গের দিকে। তাই এমন পরিস্থিতি কি হতে পারে বঙ্গেও? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই আবহে কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না রাজ্য সরকার। আর তাই রাজ্যের পার্বত্য এলাকার মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হলো নবান্ন। নেপালের হড়পা বানের সঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াংয়ের কোনও যোগ নেই ঠিকই, তবু রাজ্যের এসব এলাকায় ভূমিধসের সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাহাড়ের যে এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা থাকবে সেটার কয়েক কিলোমিটার ব্যাসযুক্ত এলাকার প্রত্যেক নাগরিকের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই বেজে উঠবে অ্যালার্ম। এই অ্যালার্মের সঙ্গে মোবাইলের স্ক্রিনে নাগরিকরা দেখতে পাবেন কী কারণে তা বেজে উঠল। অ্যালার্ম বাজলেই মোবাইলে লেখা ভেসে উঠবে, পরবর্তী আধ ঘণ্টা থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে কোন এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা আছে। তখন ওই এলাকার নাগরিকদের কী করা উচিত সেটাও ভেসে উঠবে ওই বার্তায়। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প চালু করার জন্য জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (জিএসআই) সঙ্গে ‘মউ’ স্বাক্ষর হয়েছে রাজ্য সরকারের বলে সূত্রের খবর।

গোটা বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হবে। একটি এলাকার বৃষ্টিপাতের পরিমাপ, মাটির আর্দ্রতা-সহ নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়া যাচাই করে ‘রিয়েল টাইম’ ভূমিধসের পূর্বাভাস দেওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। এই কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য আগের তথ্য ঘেঁটে ধসপ্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে পাহাড়ে বাড়ানো হবে ‘ওয়েদার স্টেশন’-এর সংখ্যা বলে সূত্রের খবর। ২০২৬ সালেই ক্যাপ শ্যাচেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেল ব্রডকাস্টিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তার মাধ্যমে বিপর্যয়ের পূর্বাভাস থাকলে নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম বাজিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

তাছাড়া উত্তরবঙ্গে ধস নেমেই থাকে। তার ফলে আটকে পড়েন পর্যটকরা। বড় দুর্ঘটনাও আগে ঘটেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং এমনকী সিকিমে নানা সময় ধস নেমে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায়। এমনকী ভূমিধসের জেরে কোনও ব্যক্তি আটকে পড়লে তাঁকে বা তাঁদের উদ্ধার করতে বিপর্যয় মোকাবিলা ভলান্টিয়ারের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে প্রাণহানি থেকে সম্পত্তি নষ্টের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই মানুষকে আগেভাগে সতর্ক করে তাঁদের প্রাণ বাঁচাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।