ক্যামাক স্ট্রিট ইস্যু কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। দু’দিন আগে কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশ হানা দিয়েছিল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে। সেদিন তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। যা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের থেকে শুরু করে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। সোমবার দেখা গেল ক্যামাক স্ট্রিটে পুলিশ-দমকল ইন হলো। আর কলকাতা পুরসভা এদিনের জন্য আউট। গত বৃহস্পতিবারের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল সোমবারও। এবার ফায়ার অডিট এবং বিল্ডিং প্ল্যান যাচাই করতে পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর যৌথ দল ঢুকে পড়ল ক্যামাক স্ট্রিটে। তবে সেটা হঠাৎই।
দমকলের আধিকারিকরা এই হানা নিয়ে জানান, ওই ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা, কোথাও কোনও খামতি রয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতেই তাঁরা এসেছেন। কে দেখতে আসতে বলেছে? কেন হঠাৎ এত সক্রিয়তা? এইসব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১ সেপ্টেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে তলব করা হয়েছে। এফআইআরের অনলাইন কপি না থাকা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তুলে পুলিশকে পাল্টা ইমেল করেছেন সাংসদ। তৃণমূলের আর এক বর্ষীয়ান সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও থানায় তলব করা হলে তিনি ৭ দিনের সময় চেয়েছেন। তার মধ্যেই সোমবার দুপুরে দেখা গেল, ফায়ার অডিট করতে পুলিশ ও দমকলের পৌঁছে গেল ক্যামাক স্ট্রিটে। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রথমেই এই যৌথ বাহিনী ঘুরে দেখেন ভবনের বাইরের অংশ। তারপরে ঢুকে পড়েন তাঁরা ভিতরের প্রত্যেক তলায়। ওই ভবনের সাত এবং আট তলায় আছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস। যৌথ বাহিনীর অফিসাররা ওই দুটি তলাতেও ঘুরে দেখেন। খতিয়ে দেখেন ‘ফায়ার অ্যালার্ম’। এখানে কোনও ‘অবৈধ’ নির্মাণ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখেন অফিসাররা। বাইরের একটি শেড নিয়ে আপত্তি জানান অফিসাররা। তারপর তাঁরা পৌঁছে যান ওই ভবনের বেসমেন্টে। সেখানে পার্কিং ব্যবস্থা থাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে কিনা সরেজমিনে দেখেন তাঁরা। এমনকী বেসমেন্টে থাকা একটি জলের পাম্পও পরীক্ষা করেন।
এই হঠাৎ করে এসে এসব করা নিয়ে বিরক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে এদিন ফায়ার অ্যালার্ম পর্যন্ত বাজানো হয়। সব মিলিয়ে একটা টানটান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে এই খতিয়ে দেখার বিষয়টি নিয়ে দমকলের এক অফিসার সরোজ বাগ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘ফায়ার-অডিট করা হচ্ছে। আমরা সবটাই খতিয়ে দেখছি। এই বিল্ডিংয়ের সব তলায় গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখা হচ্ছে। আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী বানানো হয়েছে কিনা সেটাই দেখা হচ্ছে। নকশার বাইরে কোনও অংশ পরে তৈরি করা হয়েছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে।’




