আফতাব আনসারির বিরুদ্ধে হেস্টিংস থানায় এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। ২৩ আগস্ট প্রেসিডেন্সি জেলের ১৪ নম্বর সেল থেকে উদ্ধার হয়েছিল তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি রাউটার এবং আরও বেশকিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম। কীভাবে আফতাব আনসারির মতো কুখ্যাত অপরাধীর সেলে এত বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম পৌঁছল তা জানতে আগেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ। সেই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই রুজু হল মামলা।
কিছুদিন আগেই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হয়েছিল মোবাইল ফোন-সহ একাধিক নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস। আফতাবের সেলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছিল তিনটি মোবাইল। তার মধ্যে একটি আইফোন বলে জানা গিয়েছিল। সেখান থেকে নগদ ৩১ হাজার টাকাও উদ্ধার হয়েছিল। প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রের খবর, গোপন অভিযান চালিয়ে আফতাবের সেল থেকে একটি আইফোন, আরও দুটি স্মার্টফোন, ওটিজি কেবল এবং একটি কার্ড রিডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী আফতাব জেলের ভিতর থেক মোবাইলে কথা বলছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পেরেছিল। এমনকী ইচ্ছামতো ইন্টারনেটও ব্যবহার করছিল জঙ্গি আফতাব। জেলের ভিতরে বসে আফতাব হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম কলে যোগাযোগ রাখছিল। সেই তথ্যও হাতে আসে। কিন্তু কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল তা পুলিশ জানতে পারেনি। পাকিস্তানে আফতাব কল করত কিনা এখন সেই তথ্যও পুলিশ জানার চেষ্টা করছে।
জানা গিয়েছে, এরপরেই গোপন অভিযান শুরু হয়। পুলিশের খবরের সূত্র ধরেই জেলের ১৪ নম্বর সেলে তল্লাশি চালান কারা আধিকারিকরা। আর তারপরেই আফতাবের সেল থেকে উদ্ধার হয় বেশকিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম। উল্লেখ্য, কলকাতার মার্কিন দূতাবাসে হামলার মূলচক্রী আফতাব আনসারি বহুদিন ধরেই প্রেসিডেন্সি জেলের হাই সিকিউরিটি সেলে বন্দি রয়েছে। জেলের ওই কড়া নজরদারি এড়িয়ে তার কাছে আইফোন-সহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম পৌঁছেছিল। তাই ওই সংশোধনাকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এবার সেই জঙ্গি আফতাবের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ।




