• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 25 July, 2026

ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, জুতোর মালা পরিয়ে ক্যাম্পাসে অভিযুক্তকে ঘোরালেন পড়ুয়ারা

পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে অভিযুক্তকে জুতোর মালাও পরানো হয়। নির্যাতিতা ও অন্যান্য পড়ুয়ারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই কলেজ থেকে অভিযুক্তকে সরিয়ে দেওয়ারও আর্জি জানানো হয়েছে।   

ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, জুতোর মালা পরিয়ে ক্যাম্পাসে অভিযুক্তকে ঘোরালেন পড়ুয়ারা

Photo-SNS

গোবরডাঙা হিন্দু কলেজে এক অতিথি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরেই শিক্ষার্থীরা তাঁকে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঘোরান। অতিথি অধ্যাপককে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা ডিম ছোঁড়েন। তাঁকে জুতোর মালা পরান। এমনকী ঝাড়ু দিয়ে তাঁকে মারধরও করেন।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সন্দীপ দত্ত। তিনি ওই কলেজের ভূগোলের অতিথি অধ্যাপক। এদিন অভিযুক্তকে ক্যাম্পাসে ঘোরানোর পর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গোবরডাঙা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগ, ওই কলেজেরই এক ছাত্রী সন্দীপের বিরুদ্ধে ফোনে বারবার করে হেনস্থা ও অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ওই ছাত্রীকে তাঁর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার কথাও জানান বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার অভিযোগ, আমি তাঁর সব প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলাম কারণ আমার বাড়তি টিউশনের কোনও প্রয়োজন ছিল না। ক্লাসে তাঁর পড়ানো বিষয়গুলি আমি সহজেই বুঝতে পারতাম।

ছাত্রীর অভিযোগ, সন্দীপের বাড়িতে গিয়ে ব্যক্তিগত টিউশন নিতে অস্বীকার করায় তিনি তাঁকে পরীক্ষায় ফেল করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। সেই ছাত্রী বলেন, সম্প্রতি তিনি আমাকে বলেছিলেন, টিউশনের জন্য তাঁর বাড়িতে না গেলে তিনি আমাকে ফেল করিয়ে দেবেন। এরপরই আমরা গোবরডাঙা থানায় অভিযোগ জানাতে বাধ্য হই। নির্যাতিতা ছাত্রী জানিয়েছেন, তিনি কয়েকজন সিনিয়র ছাত্রছাত্রীকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাঁরাই এদিন অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্যাম্পাসে ডিম ছুঁড়ে, ঝাড়ু মারতে মারতে ঘোরান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিও ফুটেজটি ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে দেখা গিয়েছে, শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে ঘিরে কলেজ চত্বর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে অভিযুক্তকে জুতোর মালাও পরানো হয়। নির্যাতিতা ও অন্যান্য পড়ুয়ারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই কলেজ থেকে অভিযুক্তকে সরিয়ে দেওয়ারও আর্জি জানানো হয়েছে।