ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে প্রেসিডেন্সি ছাড়া অন্য জেলে রাখার আর্জি এনআইএ-র। মঙ্গলবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের কাছে এমনই আবেদন জানায় এনআইএ-র আধিকারিকরা। যদিও ধৃতের আইনজীবী জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিন এনআইএ আদালতে ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলার চার্জশিট পেশ করে। এনআইএ-র আধিকারিকরা ৬৫ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছেন। সেই চার্জশিটে শওকত মোল্লার নাম রয়েছে। সেই সঙ্গে ধৃত রহমত আলি মোল্লা ও আহিদুল ইসলাম মোল্লারও নাম রয়েছে। সকলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিন আদালতে এনআইএ-র আধিকারিকরা দাবি করেছেন, ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় ধৃত অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে শওকত মোল্লাকে প্রেসিডেন্সিতে না রেখে অন্য সংশোধনাগারে রাখা হোক। সম্পূর্ণটাই নিরাপত্তার খাতিরে করার আর্জি জানিয়েছে এনআইএ। যদিও শওকতের আইনজীবীর অভিযোগ, গোটা বিষয়টাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হচ্ছে। ভাঙড়ে বিস্ফোরণটা পুরোটাই পরিকল্পনামাফিক করা হচ্ছে বলে এনআইএ আদালতে জানিয়েছে।
এদিন আদালতে এনআইএ-র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভোটের আগে ভয় দেখানোর জন্যই পরিকল্পনা করে শওকতের এলাকার বাইরে বোমা বাঁধা হচ্ছিল। মামলার বাকি অভিযুক্তরা তাঁদের সুরক্ষা নিয়ে বেশ চিন্তিত। যেহেকু শওকত রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী তাই তাঁকে অন্য জেলে রাখার দাবি জানিয়েছেন এনআইএ-র আধিকারিকেরা।
যদিও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের আইনজীবী জানিয়েছেন, শওকতের বিরুদ্ধে এনআইএ এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। অন্যদিকে, এনআইএ-র দাবি, ওই ঘটনার সময়ে শওকত বিধায়ক ছিলেন। তাই সেই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতে পারেনি। যদিও এর পরিপ্রেক্ষিতে শওকতের আইনজীবীর পাল্টা দাবি, এফআইআরের সময়ে এনআইএ শওকতের নামে কোনও অভিযোগ করেনি। সেই সময়ে এনআইএ-র আধিকারিকরা প্রভাবিত হয়ে গিয়েছিলেন কি না সেই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন।
উল্লেখ্য, ভাঙড়ে বিস্ফোরণ কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শওকত মোল্লা। তাঁর বাড়িতে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেও রাসায়নিক মিলেছিল। তাঁর বাড়িতে কোথা থেকে বিস্ফোরক এসেছিল সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শওকতের খোঁজ শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর সোনারপুরের কামালগাজি লাগোয়া এলাকা থেকে এনআইএ আধিকারিকরা শওকত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।




