নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার অধীনে থাকা ১৩টি হাসপাতালে পিপিপি মডেলে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষুধি কেন্দ্র চালু হতে চলেছে। এই উদ্যোগ নিল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল, দিঘা স্টেট জেনারেল, দিঘা অঘোরকামিনী, বড়রাঙ্কুয়া, মাজনা, বসন্তিয়া, খড়িপুকুরিয়া, মুগবেড়িয়া গ্রামীণ, কামারাদা, শিল্যাবেড়িয়া, রেয়াপাড়া এবং এড়াশাল গ্রামীণ হাসপাতালে সরকারি উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে ওষুধের আউটলেট খোলার প্রস্তুতি চলছে। তার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলা। ১০ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র চাওয়া হয়েছে। ৬ নভেম্বর প্রি-বিড মিটিং জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর ডেকেছে।
নন্দীগ্রাম থেকে বারবার জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এখন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই কেন্দ্র ছেড়ে ভবানীপুর হাতে রাখলেও নিজের কেন্দ্রের মতোই খেয়াল রাখবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। সদ্য এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জিতেছেন হাসিরানি রথ। তারপর এই কেন্দ্রে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মতোই আগলে রাখবেন নন্দীগ্রামকে। এবার যেন সেই কথাই রাখলেন এই উন্নয়নের মাধ্যমে। যাবতীয় ওষুধ ভর্তুকি মূল্যে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষুধি কেন্দ্র থেকে পাবেন। গুণগত মান বজায় রেখে সবচেয়ে কম দামে ওষুধ দিতে পারবে যে সংস্থা সেটা ঠিক করতেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গুণগত মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ অসিত দেওয়ান। তবে কাউন্টারের জন্য ঘরভাড়া মকুব করা হবে।
এই কাজ হলে বহু গরিব মানুষের উপকার হবে। সুলভে ওষুধ কিনে রোগ সারাতে পারবেন। নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে ৬৩০ বর্গফুট, কাঁথিতে ৪৯৫ বর্গফুট, দিঘা স্টেট জেনারেল ৪৮৪ বর্গফুট জায়গার উপর ওষুধের আউটলেট তৈরি করা হবে। নন্দীগ্রামে বার্ষিক প্রায় ৯০ হাজার, কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ৮৩ হাজার টাকা, দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা বরাত পাওয়া সংস্থাকে কনসেশন দেওয়া হবে। ১৩টি হাসপাতালেই বরাত পাওয়া সংস্থা ছাড় পাবে বলে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর।
তাছাড়া বিজেপি সরকার পিপিপি মডেলেই প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষুধি কেন্দ্র চালু করতে চলেছে। প্রত্যেক ব্লকে অন্তত একটি করে ভর্তুকি-সহ ওষুধের দোকান চালু করা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে হাসপাতালগুলিতে চিঠি দিয়ে ফার্মেসির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৯ অক্টোবর এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। এই বিষয়ে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ অসিত দেওয়ান বলেন, ‘মোট ১৩টি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষুধি কেন্দ্র চালু হবে। তার জন্য দরপত্র চাওয়া হয়েছে। পিপিপি মডেলে এটা করা হবে। ওষুধের গুণগত মান বজায় রেখে যারা সবচেয়ে কম দামে ওষুধ দিতে পারবে, তাদেরই চিহ্নিত করা হবে।’




