রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ইভিএম থেকে শুরু করে ভিভিপ্যাট, কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ একদম প্রস্তুত। সেখানে উপনির্বাচনের প্রচারের শেষদিনে ঘটে গেল এক অদ্ভূত কাণ্ড। নিজে প্রার্থী হয়েও মানুষের কাছে গিয়ে বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানালেন হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী শহিদুল হক। শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনটাই ঘটেছে। যে হুমায়ুন কবীর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করেছিলেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন, তাঁর প্রার্থীই কিনা বিজেপিকে ভোট দিতে বলছেন!
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ‘দাবাং’ বলেও প্রশংসা করেছেন। তাহলে কি সবটাই সেটিং? মুসলিম ভোট ভাগ করাই কি লক্ষ্য? এমন নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে উপনির্বাচনের একদিন আগেই। এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপিকে সমর্থন করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীরের দলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী শহিদুল হক। কিন্তু কেন এমন করলেন? এই বিষয়ে শহিদুল হকের ব্যাখ্যা, ‘বাংলায় ২০ বছর রাজত্ব করবে বিজেপি। বাংলায় বিজেপি ছাড়া আপাতত কোনও দল নেই। তৃণমূল কংগ্রেস বা অন্যান্য পার্টিকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না। তাই বাংলার সংখ্যালঘু মুসলিমদের উচিত বিজেপিকে সমর্থন করে ভোট দেওয়া।’
অন্যদিকে বিরোধী পার্টির প্রার্থীর মুখ থেকে এমন কথা শুনে অনেকেই চমকে উঠছেন। হঠাৎ কী এমন ঘটল? কেউ কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। এবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন হাসিরানি রথ। যাঁর ছেলে চন্দ্রনাথ রথ খুন হয়েছেন। আর তিনি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক। সেখানে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হয়েও শহিদুল হক বলেন, ‘সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের উচিত নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিজেপিকে ভোট দেওয়া। নন্দীগ্রামে হাঁসিরানি রথকে ভোট দিয়ে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জেতাতে হবে। নন্দীগ্রামের মুসলিমরা সরকারের সঙ্গে উন্নয়নের সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে থাকুন। তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে ভোট নষ্ট করা। বিজেপিকে ভোট দিলে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উন্নয়ন আরও হবে। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিজেপিকে জেতালে সকলের টনক নড়ে যাবে যে সংখ্যালঘু মুসলিমরা উন্নয়নের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে বিজেপির সঙ্গে যোগ দিয়েছে।’
তাছাড়া এই কাণ্ড যে ঘটেছে তা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর জানেন কিনা তা জানা যায়নি। কারণ তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আর তাঁর দলের প্রার্থী শহিদুল হক প্রকাশ্যে বলছেন, ‘নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে তিনদিন গিয়ে বিজেপির সমর্থনে প্রচার করেছি। গ্রামে গ্রামে বলেছি নন্দীগ্রামের মানুষকে হাসিরানি রথ অর্থাৎ বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। সংখ্যালঘু মুসলিমরা ভোট ভাগাভাগি করবেন না। সরাসরি নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিজেপিকে সমর্থন করে ভোট দিন। শুভেন্দু অধিকারী দাবাং মুখ্যমন্ত্রী। তিনি যে গতিতে কাজ করছেন সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। ওঁর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও দক্ষতা আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ল্যাজে-গোবরে করে ফেলেছিলেন। বাংলার সংখ্যালঘু মুসলিমদের উন্নয়নে সামিল হওয়া উচিত।’




