তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এই মামলায় হিসাব বর্হিভূত সম্পত্তি ও তোলাবাজি মামলায় দেবরাজের স্ত্রী অদিতি মুন্সিকেও ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ না পেয়ে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন দেবরাজ। মোবাইল ফোন বন্ধ করে লুকিয়ে ছিলেন পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের কাছে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের একটি রিসর্টে। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের প্রভাব খাটিয়েই ওই এলাকায় গা ঢাকা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তের সময় প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ওই এলাকার তৃণমূল নেতাদের ফোন নম্বর ট্র্যাক করে খোঁজ মেলে দেবরাজের।
পুলিশ সূত্রের খবর, পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি, অযোধ্যা পাহাড় এবং ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক রিসর্ট ও হোটেলে বিনিয়োগ রয়েছে দেবরাজের।
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজের নামে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা। চল্লিশ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল তাঁর কাছে। আড়াই কাঠা জমির ওপর একটি বহুতল তৈরি করার সময় অন্য এক তৃণমূল নেতাকে মিডলম্যান হিসেবে কাজে লাগিয়ে ওই টাকা চায় দেবরাজ বলে অভিযোগ। টাকা না মেলায় প্রায় আড়াই বছর বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেয় দেবরাজ চক্রবর্তী ও তার দলবল বলে অভিযোগ। পরে তিরিশ লক্ষ টাকায় রফা হয়। মিডলম্যানকে পাঁচ লক্ষ এবং তাঁর হাত দিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তীকে ৩০ লক্ষ টাকা দেন প্রমোটার অভিজিৎ সাহা। তারপরেই ওই বাড়ির কাজ শুরু হয়।
অভিযোগ, শুধু অভিজিৎ সাহাই নন, ওই এলাকায় সব প্রোমোটারের কাছ থেকেই নাকি এভাবে টাকা আদায় করত দেবরাজ বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমির কারবার ছাড়াও ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলাতেও তাঁর নামে দায়ের হয়েছে অভিযোগ।
২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর আসনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন তিনি। তখন থেকেই দুর্নীতি শুরু বলে অভিযোগ। দেবরাজের বিরুদ্ধে হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এমনকী দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
তবে এখনই রেহাই পাচ্ছেন না দেবরাজ চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে এবার তদন্তে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট। ইতিমধ্যেই পুলিশের থেকে তাঁরা ফাইল চেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে কিছু নথিও সংগ্রহ করেছেন ইডি আধিকারিকরা। যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেবরাজের বিপুল সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়েও খোঁজখবর শুরু করেছে ইডি।




