• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 25 June, 2026

সপ্তাহান্তে জারি ‘লাল’ সতর্কতা, তুমুল বৃষ্টিতে জল থৈ থৈ অবস্থা কলকাতার

বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সাম্প্রতিককালে এমন ঘনঘন বজ্রপাত দেখেনি মহানগরী। কিন্তু বৃহস্পতিবার বেলা বাড়তেই তীব্র ও বিকট শব্দে আকাশ চিরে একের পর এক বাজ পড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুরেই রোদ ঝলমলে আকাশ কালো করে নেমে আসে বৃষ্টি। তবে এখনই দুর্যোগের মেঘ কাটছে না। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে লাল ও কমলা দুই সতর্কতাই জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারে দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির তোড়ে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক রাস্তা জলমগ্ন। কোনও কোনও রাস্তায় আবার গাছ পড়ায় কিছুক্ষণের জন্য পথ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় জল জমায় ধীর গতিতে যান চলাচল হচ্ছে। এদিকে এসএসকেএম হাসপাতালও জলমগ্ন। জলের মধ্যেই রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন পরিজনরা।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, আগামী ২-৩ ঘণ্টায় কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। সেই সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে আগামী সোমবার পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে রেকর্ড ভাঙা অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই জন্য ওই জেলাগুলিতে লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ধস হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা রয়েছে। এই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই সঙ্গে রাজস্থান থেকে গাঙ্গেয় বঙ্গ পর্যন্ত মৌসুমী অক্ষরেখা সক্রিয় ও উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় শক্তিশালী একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাস্প স্থলভাগে ঢুকতে শুরু করেছে। আর এর জেরেই কলকাতায় বজ্রপাত করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।